স্তন দুগ্ধ পানকারী বাচ্চাদের বিভিন্ন খাবারে প্রতিক্রিয়া এবং সংবেদনশীলতা

স্তন দুগ্ধ পানকারী বাচ্চাদের বিভিন্ন খাবারে প্রতিক্রিয়া এবং সংবেদনশীলতা

 

সম্প্রতি মা হয়েছেন এরকম মেয়েরা সর্বদা চিন্তিত থাকেন এই বিষয়ে যে, কোন খাবার গুলো তার খাওয়া দরকার যাতে তার বাচ্চার সম্পূর্ণ পুষ্টি মেলে. কিছু খাবার এরকম আছে, যেগুলো মা খেলে স্তনদুগ্ধ পানকারী বাচ্চার প্রতিক্রিয়াশীলতা বা এলার্জি হতে পারে এই প্রচ্ছদে আমরা সেরকম কিছু খাদ্যের উপর আলোকপাত করবো, এবং কি করে এই সমস্যা গুলো বুঝতে পারবোসেগুলো আলোচনা করবো

তবে মা এর যতটা ভাবেন, মা এর খাবারে স্তনদুগ্ধ পানকারী বাচ্চার এলার্জি সম্বন্ধে, ব্যাপারটা ততটা সচরাচর দেখা যায়না. বাস্তবে যারা শুধুমাত্র মাতৃদুগ্ধ পান করে, এরকম একশটা বাচ্চার মধ্যে কেবলমাত্র দুটি বা  তিনটি বাচ্চার মা এর খাবার স্তনদুগ্ধের মাধ্যমে এসে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে

 

এলার্জির সচরাচর কোন লক্ষ্যনগুলি দেখা যায় মাতৃ দুগ্ধ পানকারী বাচ্চাদের?

প্রতিক্রিয়াশীলতার মাত্রার উপর নির্ভর করে কোন কোন লক্ষ্যন দেখা যাবে

সচরাচর যেগুলো দেখা যায়চামড়ার ওপর ফুসকুড়ি, ঘা, বুকের মধ্যে সাইঁ সাইঁ শব্দ শ্বাস কষ্ট

মাএরা যে সব সমস্যার কথা প্রায় বলেন, তার মধ্যেঅতিরিক্ত কান্না, যেটা বাচ্চাকে ভোলালেও থামতে চায়নাএটি সব থেকে বেশি দেখা যায় কারণ টা হলো পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত বায়ু  এছাড়াও বাচ্চা হাঁটু ভাঁজ করে পেটের উপর তুলে রাখে, চঞ্চল হয়ে ওঠে, ছটফট করে

যদিও গবেষণা বলছে, কোনো কোনো খাবার মা খেলে, বাচ্চার বায়ু বেশি হতে পারে, কিছু ক্ষেত্রে খাবারে প্রতিক্রিয়াশীলতা বা এলার্জি এর কারণ হতে পারে  সে ক্ষেত্রে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া উচিত

সম্ভাব্য খাবার কোনগুলো

এরকম কোন খাদ্য তালিকা নেই যেগুলো স্তনদুগধ দানকারী মায়েদের খাওয়া যাবে না কারণ বেশিরভাগ মা যেটা ইচ্ছে খেতে পারেন এছাড়া যেটা কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, সেটা অন্য বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া নাও সৃষ্টি করতে পারে

এটা বলা ঠিক হবে যে মা যাই খাকনা কেন, বাচ্চাও সেটাই খাচ্ছে  যেহেতু মা হলো শিশুর সম্পূর্ণ পুষ্টির উৎস স্থল, মা এর অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত যাতে তার বাচ্চার কোনো অপুষ্টি না হয়

কোন কোন পুষ্টিকর খাবার মা এর খাদ্য তালিকায় থাকা উচিত, তার একটা সম্পূর্ণ তালিকা পাওয়ার জন্য, সব থেকে ভালো একজন ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া

সবুজ শস্য এড়িয়ে যেতে বলা হয় যেমন বাঁধাকপি, কল বেরোনো শস্য, পেঁয়াজ, ফুলকপি, শসা, সবুজ ফুলকপি, ক্যাপসিকাম

এড়িয়ে যেতে বলা হয়

দারুচিনি, রসুন, ঝাল লঙ্কা, টকফলযেমন কমলা লেবু, পাতিলেবু, গন্ধরাজ লেবু, আঙুর কারণ বাচ্চার পাকস্থলীর পর্দা খুব প্রতিক্রিয়াশীল এবং যেকোনো প্রতিক্রিয়া এতে বেড়ে যেতে পারে

বক্ষদুগ্ধদায়ী মা এর বেশি কফি খাওয়া উচিত নয়, এতে বাচ্চার অস্থিরতা, নিদ্রাহীনতা হতে পারে, বেশিক্ষন টানা ঘুমোতে পারেনা

বাচ্চার পাতলা পায়খানা, পেটফাঁপা, বায়ুএই সমস্যাগুলো সাধারণত মাএরা লক্ষ্য করেন

এটা দুধের মধ্যে থাকা ল্যাকটোজ বা শর্করাযেটা বাচ্চা ধীরে ধীরে তার শরীরের সাথে খাপ খাওয়াচ্ছে এর জন্য হতে পারে

বাচ্চাদের শর্করা বা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা দেখা দিতে পারে এতে দুধ খাওয়ার আধঘন্টা পর তার লক্ষণগুলি দেখা দেয় ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার.

শূলবেদনায় – কাঁদুনে বাচ্চা

যদি বাচ্চা দিনে টানা তিন ঘন্টা বা তার বেশি কাঁদে পুরো সপ্তাহ জুড়েতিন সপ্তাহ বা তার বেশি, তখন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন একটা বাচ্চা, বিশেষত সে যদি সময়ের আগে জন্মায়, তার পেটে অস্বস্তি বা বেথা হতে পারে, মাংস পেশির সংকোচনের জন্য, এটাকেই বলা হয়, কলিক বা শূলবেদনা

এটা খুবই সচরাচর দেখা যায়  প্রতি পাঁচজনে একজন বাচ্চা এতে ভোগে এটা সবথেকে বেশি হয় বাচ্চার ছয় সপ্তাহ বয়স হলে তারপর, তিন থেকে চারমাস বয়সে, এটা কমে যায় এর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি তবে যেসব মায়েরা ধূমপান করেন, গর্ভবতী থাকাকালীন বা দুগ্ধপান করানোর সময়, তাদের বাচ্চারা বেশি এই সমস্যায় ভোগে

মাতৃদুগ্ধ পানকারী বাচ্চা সেটাই খায় যেটা তার মা খানমায়ের দুধের মাধ্যমে সেজন্য যেসব খাবার বাচ্চার পেটব্যথার কারণ  হতে পারে, বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর দুঘন্টা আগে থেকে সেইসব খাবার মায়ের খাওয়া উচিত না  সম্ভাব্য খাবারগুলি হলোদুগ্ধজাত খাবার, কফি, অতিরিক্ত তেলমশলা দেওয়া খাবার, শস্য, বাদাম, সবুজ সবজিযেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, পেঁয়াজ এবং সবুজ ফুলকপি

মা নিজের খাবারে নিজেই সচেতন থাকতে পারেন

উপসংহার

খাদ্য প্রতিক্রিয়াশীলতা আছে কিনা জানার জন্য সবথেকে ভালো উপায় হলো, মা দুধ খাওয়ানোর দুঘন্টার মধ্যে কি কি খাবার খেয়েছেন, সেটা সমীক্ষণ করা মাএর খুব স্বাভাবিক, সাধারণ খাবার খাওয়া উচিৎ, যাতে বাচ্চার পাকস্থলী সহজপাচ্য খাবার পায় এবং সুস্থ থাকে

সব সময় মা এর সহজাত প্রবৃত্তির উপর আস্থা রাখুন, কারণ সবক্ষেত্রে একজন মা ই জানেন তার বাচ্চার জন্য কোন জিনিস টা সবথেকে ভালো