৬ মাসের পরেও স্তন্যদান করানো উপকারী কেন

৬ মাসের পরেও স্তন্যদান করানো উপকারী কেন

 

এই নিবন্ধটি বর্তমানে IAP বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা অধীনে; এখনো সম্পাদিত এবং অনুমোদিত এবং প্রযুক্তিগত এবং ভাষা ত্রুটি থাকতে পারে। দয়া করে এখানে ক্লিক করে সংশোধন এবং অনুমোদিত ইংরেজি সংস্করণ পড়ুন।

প্রসবের পর প্রথম ৬ মাস শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো কতটা জরুরি সে নিশ্চয় আপনি এত দিনে জেনে ফেলেছেন। মাতৃদুগ্ধ শিশুকে পুষ্টি জোগায়, তাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। ভিটামিন ও অ্যান্টিবডিতে ভরপুর মায়ের বুকের দুধ শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে তোলে আরও মজবুত।

কিন্তু আপনি কি জানেন, ৬ মাসের পরেই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিলে এর বেশ কিছু উপকারিতা থেকে আপনি ও আপনার শিশু বঞ্চিত হবেন?

অধিকাংশ ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীই প্রসবের পর প্রথম ৬ মাসে বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তায় প্রভূত জোর দিয়ে থাকেন। বুকের দুধ খাওয়ানোর স্বাস্থ্যকর দিকগুলি কিন্তু ৬ মাসের পর বন্ধ হয়ে যায় না, তার সুপ্রভাব এই সময়সীমার পরেও বর্তমান থাকে। কাজেই ৬ মাসের পরেও স্তন্যপান করানো আপনার ও আপনার শিশুর সুস্বাস্থ্যের পক্ষে জরুরি।

শিশুর মস্তিষ্ক ও জ্ঞানসম্বন্ধীয় বিকাশের জন্য ৬ মাসের পরের প্রচুর প্রচুর পৌষ্টিক উপাদান এবং ভিটামিনের প্রয়োজন আছে। শিশুর এই বিপুল পরিমাণ পৌষ্টিক চাহিদা মেটাতে শক্ত খাবার দিতে শুরু করার পরেও পাশাপাশি বুকের দুধ খাইয়ে যাওয়া জরুরি।

শক্ত খাবার কি যথেষ্ট নয়?

৬ মাসের মাথায় বাচ্চাকে শক্ত খাবার দিতে শুরু করা প্রয়োজন। তার কারণ হল, বাড়ন্ত শিশুর পুষ্টির চাহিদা এই সময়ের পর থেকে আর শুধুমাত্র বুকের দুধ দিয়ে মেটানো সম্ভব হয় না।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিশিয়ান-এর (AAP) মতে, প্রসবের পর প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো সবচেয়ে শ্রেয়। কিন্তু ৬ মাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শক্ত খাবার দিতে শুরু করা কিন্তু একইরকম গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর পুষ্টির চাহিদা যখন স্তন্যদুগ্ধ থেকে প্রাপ্ত পুষ্টির পরিমাণকে ছাড়িয়ে যায়, শক্ত খাবার সেই খামতি পূরণ করতে সাহায্য করে।

কিন্তু তার সঙ্গেই মনে রাখা দরকার, বুকের দুধে তা সত্ত্বেও এমন অনেক পৌষ্টিক উপাদান আছে যা কোনও শক্ত খাবারের পক্ষেই শিশুকে দেওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং শক্ত খাবার দিতে শুরু করলেও বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না। এএপি-র সুপারিশ হল, কোনও শারীরিক জটিলতার কারণে নির্দিষ্ট করে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার প্রয়োজন না পড়লে ১২ মাস বা তার অধিক সময় ধরেও বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে পারেন।

শিশুর ৬ মাস বয়সের পরে স্তন্যপান করানোর উপকারিতা বিপুল। যে কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ-এর মত মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলিও সম্প্রসারিত স্তন্যদানকাল নিয়ে একাধিক প্রচার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলিও প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো এবং তার পর থেকে অন্য খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ খাইয়ে চলার সুপারিশই করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে কমপক্ষে প্রথম এক বছর বুকের দুধ খাওয়ানোর কথা বলছে, ইউনিসেফ সেখানে আরও এক ধাপ এগিয়ে বলছে অন্তত ২ বছর বয়স পর্যন্ত যেন বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ না করা হয়। স্তন্যদানের সময়কাল যত দিন সম্প্রসারিত হবে, মা ও শিশু উভয়ের পক্ষেই তা ততটাই উপকারী। সুতরাং, সাধ্য ও সাম্যর্থ থাকলে, ২ বছর বা তার বেশি সময় ধরে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে থাকুন।

মাসের পর স্তন্যপান কী ভাবে আপনার শিশুর উপকার করে?

মাতৃদুগ্ধ ভিটামিন, মিনারেল এবং আরও নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর। এই অত্যাবশ্যকীয় উপাদানগুলি শিশুদেহকে পুষ্টি দেয় এবং তার বাড়বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কাজেই, ৬ মাসকালের পরেও বুকের দুধ খাওয়াতে থাকলে শিশু অনেক বেশি তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠবে, এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে।

তাছাড়া, স্তন্যপানের মাধ্যমে শিশুর ঘাড়ের ব্যায়াম হয়। এক স্তন থেকে অন্য স্তনে দুধ খাওয়ার জন্য অবস্থান পরিবর্তনের সময় তার ঘাড়ের পেশির সম্প্রসারণ হয়, যা তার জন্য উপকারী।

বোধক্ষমতার বিকাশ – মাতৃদুগ্ধ শুধু আপনার শিশুর শরীরকেই পুষ্টি দেয় না, সাহায্য করে তার মস্তিষ্কের বিকাশেও। চিকিৎসক পি জে কুইন-এর নেতৃত্বে “৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর বিকাশে স্তন্যপানের ভূমিকা” নামে একটি যৌথ গবেষণাপত্রে প্রকাশ, মাতৃদুগ্ধে ডিএইচএ এবং অন্যান্য বেশ কিছু জৈব পৌষ্টিক উপাদান আছে যা মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অপরিহার্য। গরুর দুধ বা ফর্মুলা দুধে এই উপাদানগুলি সাধারণতঃ পাওয়া যায় না।

প্রতিরোধ ক্ষমতার মজবুতিকরণ – নিজের শিশুকে ঝলমলে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে উঠতে দেখতে কে না চায়? সর্দিকাশি, অ্যালার্জি, কানের সংক্রমণ, শ্বাসযন্ত্রের উপরের দিকের সংক্রমণ ইত্যাদি সাধারণ কিন্তু কষ্টকর অসুখবিসুখ থেকে শিশুকে মুক্ত রাখতে চাইবেন সব মা-ই। এর সব কিছু থেকে পরিত্রাণের উপায় কিন্তু হাতের কাছেই, স্তন্যপান।

মায়ের বুকের দুধে নানান অ্যান্টিবডি থাকে যা অসুখবিসুখ পুনরাবৃত্তির হার কমায়, এবং অসুস্থ শরীরকে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। শিশুর যদি কোনও রকম অসুখ করে থাকে, বুকের দুধ খাওয়ালে সে দ্রুত সেরে উঠবে।

আবারও, স্তন্যপান শুধুই শিশুমৃত্যুর হার কমায় না। পরবর্তী জীবনে আপনার শিশু যে সব অসুখের মুখে পড়তে পারে সেগুলির সম্ভাবনাও কমায়। এদের মধ্যে অন্যতম হল ডায়াবেটিস, হাঁপানি এবং স্থূলতা।

হজমশক্তি বৃদ্ধি – শক্ত খাবার খাওয়াতে শুরু করানোর সঙ্গে সঙ্গে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে বারণ করা হচ্ছে এই কারণেই। বুকের দুধ খাবার তাড়াতাড়ি হজম করতে সাহায্য করে, এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে রাখে। পুষ্টিগুণের জন্য তো বটেই, শিশুর হজমের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই অন্তত বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না।

দাঁত ওঠার যন্ত্রণা কমায় – নিজে নিজে স্তন্যপান ছেড়ে দেওয়ার আগে আগে দাঁত ওঠা শিশুদের জন্য একটা বড়সড় সমস্যা। এই সময়টায় শিশু শক্ত খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে, এমনকি বুকের দুধ খেতেও না চাইতে পারে। শিশু না চাইলেও এই সময়টা বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যান, ও আরাম পাবে, যন্ত্রণাও কমবে। শিশু এই সময় শক্ত খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তারও কারণ থাকবে না।

৬ মাসের পর স্তন্যপান কী ভাবে আপনার উপকার করে?

শিশুর সঙ্গে বন্ধন – মা হওয়ার পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো একটা অনন্য অনুভূতি। আপনার শিশুর কাছেও কিন্তু এই অনুভূতিটা একইরকম গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই ভালোবাসাটা কখনওই কমে যায় না, আপনি ২ বছর ধরে বুকের দুধ খাওয়াতে থাকলেও না। শিশুর সঙ্গে আপনার এই ভালোবাসার যোগাযোগটা আরও মজবুত করার জন্যই বলা হয় স্তন্যদান করার সময় কোনও ছেদ পড়া উচিত নয়। এটা একেবারেই প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক একটা অনুভূতি, যা মা না হলে কোনও দিন অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

ক্যান্সারের সম্ভাবনা হ্রাস – যে কোনও মায়েরই সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন বোধহয় মাতৃত্বকালীন ক্যান্সারের শিকার হওয়া। স্তন্যদান জরায়ুর ক্যান্সার, ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমায় বহু গুণে। মায়ের স্বাস্থ্যরক্ষায় স্তন্যদান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া।

প্রসবোত্তর অবসাদের শঙ্কা কমায় – সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রসবের পর চেপে বসা তীব্র মানসিক অবসাদ, যার পোশাকি নাম পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন, নতুন মায়েদের প্রভূত ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে। এর থেকে একটি জটিলতর মানসিক সমস্যা, মাতৃত্বজনিত অবসেসিভ-কম্পালিসিভ ডিজঅর্ডারও দেখা দিতে পারে। ৬ মাস সময়কালের পরেও স্তন্যপান করিয়ে গেলে প্রসবোত্তর মানসিক অবসাদের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায় বলে দেখা গিয়েছে।

শিশুর জন্য সস্তায় পুষ্টিকর খাদ্য – বাজারচলতি ফর্মুলা বা অন্যান্য বিকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে, মায়ের বুকের দুধ আসলে শিশুর জন্য সবচেয়ে সস্তা বিকল্প। তাছাড়া, ফর্মুলা দুধে অনেক সময় অ্যালার্জি হতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ালে সে আশঙ্কাও নেই। কোন ফর্মুলায় কী কী উপাদান আছে সেই সব দেখেশুনে বেছে কেনার ঝক্কিও নেই। শিশুর জন্য নিখরচায় সবচেয়ে ভালো খাদ্য মায়ের দুধই।

৬ মাসের পর স্তন্যপান করানোর কী কী অসুবিধা

৬ মাস সময়কালের পরেও স্তন্যদান করা আপনার ও শিশুর জন্য উপকারী হলেও, অনেক সময়েই আপনার মনে হতে পারে এটা হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত হল না, হয়তো থেমে যাওয়া উচিত। জীবনের আর পাঁচটা ঘটনার মতই, সব ভালো জিনিসেই ক্লান্ত হয়ে পড়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। তবে, এই অসুবিধাগুলির সবক’টিরই উপায় আছে। কিছু জিনিস মাথায় রাখলে স্তন্যদানের উপকারিতা থেকে নিজেকে বা শিশুকে বঞ্চিত করার কোনও দরকারই পড়বে না।

নীচে কিছু সমস্যা ও তা সমাধানের উপায় দেওয়া হল।

জনবহুল জায়গায় স্তন্যদান – প্রসবের ৬ মাসের পর আপনার চাকরিস্থলে মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে; কাজেই এই সময়ের পর বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে গেলে এমন একাধিক পরিস্থিতি আসতে পারে যেখানে আপনাকে বাড়ির বাইরে বা জনাকীর্ণ জায়গায় স্তন্যপান করাতে হচ্ছে।

পরিস্থিতিটা নিঃসন্দেহে ভয়ের, অস্বস্তির। চারপাশে নানা কৌতূহলী দৃষ্টির ভিড়ের মাঝখানে স্তন্যদান করতে হলে এমন মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক নয় যে এবারে বোধহয় ফর্মুলা দুধ খাওয়ানো শুরু করাই ভালো।

সেটা করার কিন্তু প্রয়োজন নেই। ভারতের নতুন মাতৃত্বকালীন ছুটি আইনে কর্মক্ষেত্রে নতুন মায়েদের জন্য স্তন্যদানের জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; আপনার কর্মক্ষেত্রে এক্ষুনি যদি নাও হয় এই পরিষেবা চালু হয়ে যাবেই। তাছাড়া আজকাল রেস্তোঁরা, বিমানবন্দর ইত্যাদি জায়গায় স্তন্যদান করানোর জন্য আলাদা ঘর নির্দিষ্ট করা থাকে। যদি এমন কোনও জায়গা না পান, এবং হয়তো বা পার্কে বসেই দুধ খাওয়াতে হচ্ছে, তাহলে হাতের কাছে একটা চাদর রাখুন সবসময়। লোকচক্ষুর আড়ালে নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করেই দুধ খাওয়াতে পারবেন।

কামড় ও কাটাছেঁড়ার সমস্যা – ৬ মাসের আশপাশ দিয়ে বাচ্চাদের দাঁত উঠতে শুরু করবে, এবং দাঁত ওঠার সময় স্তন্যদান করালে আপনার স্তন কেটেছড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। এগুলি সাধারণতঃ কখনওই খুব গুরুতর কাটাছেঁড়া হয় না, তবে বিভিন্ন মায়ের ক্ষেত্রে এই যন্ত্রণার ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া হয়। শিশু যদি কামড়াতে শুরু করে, তার অর্থ সম্ভবত তার পেট ভরে গেছে, বা তার অবস্থান ঠিক নেই। এ ক্ষেত্রে তার অবস্থান ঠিক আছে কিনা সেটা ভালো করে দেখে নিন, অথবা একটু বিরতি নিন।

স্তন্যপানে অনীহা বা ‘নার্সিং স্ট্রাইক’ – ৬ মাসের পর বুকের দুধ খাওয়াতে থাকলে এটা বেশ একটা সাধারণ সমস্যা যে শিশুর মাঝেমধ্যে স্তন্যপান করতে বিপুল অনীহা হবে। মুশকিল হল, অনেক মা-ই এটাকে শিশুর নিজে থেকে স্তন্যপান ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাটির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। এমন সময়েও স্তন্যপানে অনীহা ঘটতে পারে যখন শিশু নিজে থেকে স্তন্যপান ছেড়ে দেওয়ার ধারেকাছেও নেই।

স্তন্যপানে এইরকম অনীহার অর্থ, শিশুর কোনও একটা সমস্যা হচ্ছে। কানের সংক্রমণ থাকলে তা তার স্তন্যপানের সময় চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার কারণে হয়তো সে দুধ খেতে চাইছে না। অথবা, দাঁত ওঠার সময়েও অনেক শিশু স্তন্যপান করতে চায় না, এই সময়ে তারা শক্ত খাবার থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেয়।

স্তন্যপানে অনীহা দেখলে, দুধ খাওয়ানোর সময়টা বদলে ফেলুন। যখন বাচ্চা ক্লান্ত আছে, সবে ঘুম থেকে উঠেছে বা ঘুমোতে যাবে, এমন সময়ে দুধ খাওয়ান। তাছাড়া, যখনই যখনই ও আপনার বুক চাইবে তখনই তাকে সেটা দিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, স্তন্যপানে অনীহা স্বতন্ত্র সমস্যা নয়, এটা অন্য কোনও সমস্যার একটা উপসর্গ। মূল সমস্যা খুঁজে বার করে সত্বর তা সমাধানের চেষ্টা করুন।

উপসংহার

শিশুর যথাযথ ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য স্তন্যপান অপরিহার্য। আর শিশুর পাশাপাশি আপনাকেও এই প্রক্রিয়া সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। কাজেই ৬ মাস সময়কালের পরেও বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে না যাওয়ার কোনও কারণ নেই। ঠিকমত দুধ খাওয়ালে, এবং যথাসময়ে শক্ত খাবার খাওয়াতে শুরু করলে, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচা করে ফর্মুলা দুধ খাওয়ানোর কোনও প্রয়োজনই পড়বে না।