বুকের দুধের পরিপূরক: কখন কেন ও কী ভাবে দেবেন

বুকের দুধের পরিপূরক: কখন কেন ও কী ভাবে দেবেন

 

এই নিবন্ধটি বর্তমানে IAP বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা অধীনে; এখনো সম্পাদিত এবং অনুমোদিত এবং প্রযুক্তিগত এবং ভাষা ত্রুটি থাকতে পারে। দয়া করে এখানে ক্লিক করে সংশোধন এবং অনুমোদিত ইংরেজি সংস্করণ পড়ুন।

বাড়িতে একটি নতুন শিশু এলে সে যাতে সম্পূর্ণ পুষ্টি পায় এবং সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠতে পারে সে দিকে স্বাভাবিকভাবেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এ কথা সত্য যে মায়ের বুকের দুধের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর শিশুর জন্য আর কিছু নয়। কিন্তু শিশু যতই বেড়ে উঠবে ধীরে ধীরে দেখবেন শুধু মায়ের বুকের দুধে তার পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা আর যাচ্ছে না। তখনই বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক হিসেবে আরও কিছু খাবার শিশুকে দেওয়া শুরু করা প্রয়োজন।

পরিপূরক আহার কী?

যে সময় থেকে বাড়ন্ত শিশুর শরীরে পুষ্টির চাহিদা শুধু মায়ের বুকের দুধ দিয়ে আর মেটানো যায় না, তখন তার যথাযথ পুষ্টিসাধনের জন্য মায়ের দুধ ছাড়া অন্যান্য তরল ও শক্ত খাবার খাওয়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। এটিকেই পরিপূরক আহার বলা হয়।

কখন পরিপূরক আহার দেওয়া শুরু করবেন?

সারা পৃথিবীতেই ডাক্তাররা ৬ মাস বা তার উপরের বয়সটিকে এর জন্য আদর্শ ধরেন। তবে, নানা দেশের সাংস্কৃতিক পার্থক্য হিসেবে আনলে এই সময়কালটা ৬ মাস থেকে শুরু করে ১৮-২৪ মাস পর্যন্তও হতে পারে। মনে রাখবেন, বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে নয়, বরং পাশাপাশিই চলবে পরিপূরক আহার দেওয়া।

উপরন্তু, এই সময়কালটিতেই মূলত শিশুদের অপুষ্টিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে উন্নয়নশীল বা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে। এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য হল ভারতের প্রেক্ষিতে বিশেষ ভাবে শিশুদের পৌষ্টিক চাহিদা কীভাবে পূরণ করা যায় তা বিধৃত করা।

কী কী ধাপ আছে

প্রায় সব ক্ষেত্রেই যেহেতু পরিপূরক আহার খুব অল্প বয়স থেকে শুরু করা হয়, তাই কিছু জিনিস মাথায় রাখা প্রয়োজন। পরিপূরক আহার হতে হবে:

  • পর্যাপ্ত (বয়স অনুযায়ী যথাযথ পরিমাণে)
  • ঘন ঘন (নির্দিষ্ট সময় বজায় রেখে)
  • নিয়মিত (যখন তখন হলে চলবে না)
  • বৈচিত্র্যপূর্ণ (নানা রকম স্বাস্থ্যকর খাবারের সংমিশ্রণ)

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পরিপূরক আহার বাড়িতে হাতে করে তৈরি করা হবে। কাজেই খাবার রান্নার সময় তা যাতে যথাসম্ভব নিরাপদ থাকে, যাতে কোনও ভাবে খাবারে জীবাণু সংক্রমণ না ঘটে তা খেয়াল রাখা দরকার। পরিশ্রুত জল, পরিষ্কার বাসন, স্টেরিলাইজ করা বা ফুটিয়ে নেওয়া বোতল ইত্যাদি ব্যবহার করবেন।

শিশুর ব্যবহারের বাসন, সেই বাসন পরিষ্কারের সাবান ও বুরুশ ইত্যাদি বাকিদের থেকে আলাদা রাখাই বাঞ্ছনীয়।

কতটা খাওয়াবেন?

মনে রাখতে হবে যে শিশুর পরিপাকতন্ত্র খুবই নরম এবং অপরিণত, কাজেই শুধুমাত্র বয়সোপযোগী খাবারই দেওয়া উচিত, এবং তাও অল্প অল্প পরিমাণে। শিশু সহজেই হজম করতে পারবে এমন খাবার দিন, মশলাপাতি থেকে একদম দূরে থাকুন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ হল, ৬ মাস বয়স থেকে শিশুদের বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক আহার দেওয়া দরকার; ৬-৮ মাস বয়সের মধ্যে দিনে ২-৩ বার করে, এবং ৯-১১ মাস বয়সে দিনে ৩-৪ বার করে খাওয়ানো প্রয়োজন। ১২ মাস পূর্ণ করার পর থেকে পরিপূরক আহারের পাশাপাশি দিনে ১-২ বার করে ছোটখাটো জলখাবারও (যেমন ১-২টো বিস্কুট) দেওয়া যেতে পারে।

কী খাওয়াবেন (৬-১২ মাস)

সঠিক পরিপূরক আহার দেওয়াটা শুধু নানা রকমের পুষ্টিকর খাবার সাজিয়ে দেওয়াই কিন্তু নয়, শিশুকে খাওয়ানোর প্রক্রিয়াটাও এক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ। ছোট বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য প্রচুর যত্ন এবং ধৈর্য্য প্রয়োজন, এবং তাদের কখন খিদে পাচ্ছে, কখন খেতে ইচ্ছে করছে না, এই সব কিছু মাথায় রাখা এবং নতুন ধরণের খাবার খেতে তাদের যথাযথ ভাবে উৎসাহ দেওয়াটাও দরকারি।

রোজকার বাজারে এমন অনেক প্রাকৃতিক খাবার পাওয়া যায় যা ৬-১২ মাসের শিশুদের খাওয়ানো নিরাপদ। বাড়িতে তৈরি ডালের জল, আপেল সেদ্ধ, কলা সেদ্ধ, গাজর সেদ্ধ এই সবই শিশুদের পক্ষে উপকারী ও পুষ্টিকর। তরল খাবার হিসেবে অর্ধেক কমলালেবুর রস করে তাতে ফুটানো জল মিশিয়ে দিতে পারেন, কিংবা বেদানার রস। কয়েকটা কিশমিশ ও তুলসী পাতা ফুটিয়ে সেই জল আধ কাপ খাওয়ালেও উপকারী।

দুপুর বা রাতের খাবারের জন্য চাল ও ডাল একসাথে গুঁড়ো করে রেখে দিতে পারেন। এই মিশ্রণ প্রেশার কুকারে সেদ্ধ করে অল্প নুন আর ঘি দিয়ে খুবই সুস্বাদু ও সহজপাচ্য খাবার তৈরি করা যায়। তবে মনে রাখবেন, দিনে একটি বা খুব বেশি হলে দু’টির বেশি নতুন খাবার কখনওই খাওয়ানো ঠিক নয়।

এছাড়াও, নানা বয়সের উপযোগী সহজে তৈরি করার যায় এমন বহু ফর্মুলা খাদ্য বাজারে পাওয়া যায়, যেমন সেরেল্যাক, ল্যাক্টোজেন, ন্যান-প্রো ইত্যাদি।

কোনও কোনও শিশুর নির্দিষ্ট কিছু খাবারে অ্যালার্জি থাকতে পারে। তাই ১২ মাস পূর্ণ হওয়ার আগে মাংস বা ডিম খাওয়ানোর চেষ্টা না করাই ভালো।

কী খাওয়াবেন (১২-২৪ মাস)

১ বছর বয়স পূর্ণ হতে হতে বেশিরভাগ বাচ্চারই একটা-দু’টো দাঁত উঠে যায়, আর এই সময়টায় তারা চিবোতে খুবই পছন্দ করে। এই সময়ে রুটি বা চাপাটি তাদের পক্ষে ভালো খাবার। দুধ-রুটি, মিষ্টি রুটি, পাকা কলা, ডাল দিয়ে গলা ভাত, পেঁপেসেদ্ধ, নরম বিস্কুট, ইডলি ইত্যাদি নানা ধরণের খাবারই এই সময়ে বাচ্চাদের দিলে তারা খুশি মনে খেয়ে নেবে। অনেকে শুকনো ফল গুঁড়ো করে সেদ্ধ করে পরিজ বানিয়েও শিশুকে খাইয়ে থাকেন। শিশুর খাওয়ার ক্ষমতা বুঝে ধীরে ধীরে আহারের পরিমাণ বাড়ান, এবং দুধ খাওয়াতে কখনওই ভুলবেন না।

খুব অল্প বয়স থেকেই শিশুর ভিতরে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার একটা অভ্যাস তৈরি করে দেওয়া খুব জরুরি। আমাদের দেশে প্রাকৃতিক খাবারের তো কোনও অভাব নেই, কাজেই বাজারে কেনা কৃত্রিম খাদ্যের বদলে চেষ্টা করুন যথাসম্ভব তাজা উপকরণ দিয়ে বাড়িতে রান্না করা খাবারই শিশুকে দিতে। মনে রাখবেন, আহার স্বাস্থ্যকর হলে শিশুও স্বাস্থ্যবান হবে।