সদ্যোজাতর আহার: পৌষ্টিক চাহিদা ও উপযুক্ত খাদ্য

সদ্যোজাতর আহার: পৌষ্টিক চাহিদা ও উপযুক্ত খাদ্য

 

শিশু প্রকৃতির অপরূপ বিস্ময়, যাকে নিজের গর্ভে সৃজন ও লালন করেন এক মা। মাতৃগর্ভ থেকে শিশু জগতে ভূমিষ্ঠ হলে মাতৃত্বের একটা নতুন পর্যায় শুরু হয়। এবার কাজ হল শিশুকে গর্ভের বাইরে লালন করা। শিশুর যথাযথ ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য কিছু নির্দিষ্ট পৌষ্টিক চাহিদা পূরণ করা প্রয়োজন, বিশেষ করে জীবনের একেবারে প্রথম ক’টা বছরে। শিশুর প্রথম বছরটি বিশেষত বৃদ্ধি ও শিশুদেহের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই এই সময়টায় শিশু যাতে ঠিকঠাক পুষ্টি পায় তা খেয়াল রাখা আবশ্যক। আপনার সন্তানের জীবনের প্রথম পদক্ষেপটা যাতে স্বাস্থ্যকর হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হলে কিছু সহজ সরল নিয়মকানুন মেনে চললেই হবে।

আমরা যে খাবার খাই তা শুধু আমাদের বাড়বৃদ্ধিকেই প্রভাবিত করে না, তা আমাদের শরীরে প্রতিরোধ শক্তি এবং সর্বাঙ্গীণ বিকাশের প্রধান উৎসও বটে। কাজেই অল্প বয়সে অর্থাৎ একেবারে সদ্যোজাত অবস্থা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাওয়ার একটা নিয়ম তৈরি করে ফেলতে পারলে শিশুর বাড়বৃদ্ধি এবং বিকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। সদ্যোজাত অবস্থায় পুষ্টিতে খামতি থাকলে তা থেকে বৃদ্ধির হারে বাধা, স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপূর্ণতা দেখা দিতে পারে।

শিশুর আহার পরিকল্পনা করবেন কী ভাবে

সদ্যোজাতর আহার পরিকল্পনা করতে গেলে প্রথমে জানতে হবে যে বিভিন্ন বয়সে শিশুর কী কী পৌষ্টিক উপাদান প্রয়োজন হয়, কী কী উৎস থেকে সেই সব উপাদান আহরণ করা সম্ভব, কোন পর্যায়ে কোন উপাদান সবচেয়ে জরুরি এবং কতটা পরিমাণে খাওয়ানো নিরাপদ। সদ্যোজাতর শরীরের সব অংশ পুরোপুরি পরিণত অবস্থায় থাকে না, কাজেই তার দেহকে হজমশক্তি গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত সময় দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে অন্যান্য খাবার দিতে শুরু করার আগে মায়ের বুকের দুধই সদ্যোজাতর পুষ্টিসাধনের সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর উপায়।

শিশুর কী কী পুষ্টিগুণ দরকার?

একটু বড় শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কের তুলনায় সদ্যোজাতদের পৌষ্টিক চাহিদা অনেকটাই আলাদা। তাদের এমন সব পুষ্টিগুণ দরকার যা শরীরকে সবল এবং মস্তিষ্ককে সতেজ করে তুলতে সাহায্য করবে।

ফ্যাট

শক্তির উৎস এবং মস্তিষ্ক তথা সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য জরুরি তো বটেই, শরীরের কোষের পর্দাগুলির কর্মক্ষমতা বজায় রাখতেও ফ্যাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। মনে রাখতে হবে, আপনার সদ্যোজাতটির পাকস্থলীটাও তারই মত ছোট্ট, আর এক এক বারে খুব অল্প পরিমাণ খাবারই তা সহ্য করতে পারে। ফ্যাট থেকে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়, কাজেই তা দিতে হবে শিশুর পাকস্থলীর গ্রহণক্ষমতা বুঝে এবং স্বল্প পরিমাণে। ফ্যাট মূলত দু’ধরণের – এসেনশিয়াল ফ্যাট (যা শরীরে উৎপন্ন হয় না) এবং নন-এসেনশিয়াল ফ্যাট (যা শরীরের ভিতরেই উৎপন্ন হতে পারে)। মায়ের বুকের দুধ ফ্যাটের স্বাভাবিক উৎস, নাহলে বাইরের খাবারে ফ্যাট যোগ করতে হবে।

প্রোটিন

দেহের কোষসমূহের অন্যতম উপাদান হল প্রোটিন, এবং নতুন কোষ তৈরির জন্য এটি আবশ্যক। শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন অপরিহার্য; কারণ নতুন কোষ তৈরি হলে তবেই না নতুন পেশীতন্তু তৈরি হবে, যা মিলে তৈরি হবে বিভিন্ন অঙ্গ, অর্থাৎ সার্বিক ভাবে শিশুর গোটা শরীরই। মায়ের বুকের দুধে যে পরিমাণ প্রোটিন থাকে তা শিশুর বৃদ্ধির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

০-৬ মাসের মধ্যে শিশুর পুষ্টিসাধন

০ থেকে ৬ মাস বয়সের মধ্যে শিশুদের সাধারণতঃ মায়ের বুকের দুধই খাওয়ানো হয়, নয়তো কোনও ফর্মুলা দুধ যাতে উপযুক্ত পরিমাণে প্রোটিন, শর্করা, ফ্যাট, ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে। ফর্মুলা দুধ মাতৃদুগ্ধের সমান পরিমাণে পুষ্টিগুণ দিয়েই তৈরির চেষ্টা হয়, কিন্তু এগুলিকে বুকের দুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যা মায়ের দুধে থাকলেও ফর্মুলা দুধে থাকে না; যেমন প্রতিরোধ ক্ষমতাবর্ধনকারী প্রোটিন (যা শিশুদেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে মজবুত করে), মাইক্রোব-প্রতিরোধকারী উপাদান, এনজাইম, প্রদাহ-প্রতিরোধকারী উপাদান ইত্যাদি, এছাড়াও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডসমূহ।

মাতৃদুগ্ধ

জন্ম থেকে ৬ মাস পর্যন্ত এটিই শিশুর পুষ্টিসাধনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ একেবারে যথাযথ পরিমাণে উপস্থিত থাকে। এই কারণে সুস্থ-স্বাভাবিক শিশুর জন্য এটিই আদর্শ খাদ্য। বুকের দুধে ফ্যাট, প্রোটিন, মিনারেল ও ভিটামিনের আদর্শ সংমিশ্রণ থাকে, কাজেই শিশু নিজের শরীরের প্রয়োজন মত কম বা বেশি দুধ টানতে পারে।

কিন্তু আপনার যদি বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয়ে থাকে, অবশ্যই চিকিৎসক এবং ডায়েট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তাঁরা সম্ভবত আপনার শিশুটিকে ফর্মুলা দুধ খাওয়ানোর পরামর্শই দেবেন, যাতে সে তার অবশ্যপ্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণগুলি থেকে বঞ্চিত না হয়। ফর্মুলা দুধে বুকের দুধ থেকে প্রাপ্ত সবক’টি পুষ্টিগুণ না থাকলেও, শিশু ফর্মুলা দুধ খেয়েও যথেষ্ট সুস্থ-স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে ওঠে, কাজেই এই নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রতিটি শিশুর পৌষ্টিক চাহিদা আলাদা আলাদা, কাজেই তারা বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত চেক-আপ করানো প্রয়োজন যাতে তাদের পৌষ্টিক চাহিদা বিচার করে সেইমত সঠিক ফর্মুলা দুধ খাওয়ানো যায়।

শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময়টায় মায়েরও উচিত নিজের আহারের দিকে নজর রাখা, যাতে তাঁর নিজের শরীর সুস্থ থাকে এবং তাঁর ও শিশুর দু’জনেরই পুষ্টির চাহিদা যথাযথ ভাবে পূরণ হয়। তার জীবনের একেবারে প্রথম ক’টা মাসে শিশু তার মায়ের শরীর থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, তাই মায়েরও নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। মা যে খাবার খান তাই তাঁর বুকের দুধে মেশে, অর্থাৎ এটা বলাই যায় যে মা যা খান, শিশুও তাই খায়। ধূমপান, মদ্যপানের মত বদভ্যাসের থেকে দূরে থাকুন, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা পরিহার করুন।

ভিটামিন ডি

কিছু শিশু মায়ের বুকের দুধ থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি আহরণ করে নিতে পারে। কিন্তু তার জন্য মায়ের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা একদম যথাযথ হওয়া দরকার, যা অধিকাংশেরই থাকে না। গর্ভবতী বা নতুন মায়েরা নিজের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করানোর বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ পন্থাটি বেছে নিন।

লোহা

শিশুরা মাতৃগর্ভে থাকার সময়েই নিজেদের শরীরে লোহা সঞ্চয় করা শুরু করে, এবং এটা ৬ মাস পর্যন্ত চলে। বুকের দুধে সাধারণত পর্যাপ্ত লোহা থাকে না, কিন্তু যেটুকু থাকে শরীরে তার আত্মীকরণ খুব ভালো ভাবে হয়, বিশেষত পাশাপাশি যদি ভিটামিন সি আলাদা করে পরিপূরক হিসেবে দেওয়া যায়। এই সমস্ত কারণেই সাধারণত শিশুর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত আলাদা করে শিশুর শরীরে লোহার জোগান দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

তরল ও আর্দ্রতা

কোনও কোনও পরিস্থিতিতে সদ্যোজাতরা খুব সহজে এবং দ্রুত দেহের আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলতে পারে, যেমন তাদের জ্বর বা ঘন ঘন বমি হলে, কিংবা আবহাওয়া খুব গরম থাকলে। শিশুর যদি ডায়রিয়া হয় তাহলেও দেহে আর্দ্রতা ফেরানো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এক্ষেত্রে, জলে অল্প চিনি ও নুন মিশিয়ে সহজ সরল ইলেকট্রোলাইট দ্রবণ তৈরি করে নিতে পারেন।

নজরে রাখবেন:

গাঢ় হলুদ প্রস্রাব – আর্দ্রতা হারানোর লক্ষণ

খুব হালকা হলুদ প্রস্রাব – আর্দ্রতা বেশি হয়ে যাওয়ার লক্ষণ

এই দুয়ের মাঝামাঝি রঙ বা হালকা হলুদ প্রস্রাব – স্বাভাবিক

নীচে ০-১২ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের বয়স অনুযায়ী কতটা কী খাবার প্রয়োজন তার একটা তালিকা দেওয়া হল। এই পরিকল্পনাটি ৮-১৫% প্রোটিন, ৩৫-৫৫% ফ্যাট এবং ৩০-৫০% শর্করার ভাগ দেওয়া আছে। শিশুর কতটা প্রোটিন এবং ক্যালোরি দরকার তার যথাযথ পরিমাণও এখানে দেওয়া আছে।

মাস বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ (আউন্সের হিসেবে) সিরিল বা শর্করাজাতীয় খাবার (কাপের হিসেবে) ফল
০-৩ ১৮-৩২ না না
৪-৬ ২৮-৪০ ১/৪-১/২ কাপ সিরিল (মিশ্র) ১/৪-১/২ কাপ, সেদ্ধ ও থেঁতো করা
৭-৯ ২৪-৩৬ ১-আড়াই, আলুসেদ্ধ, ভাত, পাস্তা, পাঁউরুটি, নরম কেক ইত্যাদি ১/২-১ কাপ থেঁতো করা, বা কলা ইত্যাদি নরম ফল
১০-১২ ১৮-৩০ ৩-সাড়ে ৪ ১/২-১ কাপ থেঁতো করা, বা কলা ইত্যাদি নরম ফল

পরামর্শ – শিশুকে নতুন নতুন খাবার দেওয়ার মধ্যে অন্তত ৩-৪ দিন করে ব্যবধান রাখুন; এতে বুঝতে পারবেন তার কোনও খাবার হজমে অসুবিধা হচ্ছে কিনা বা তার খাবার পছন্দ হচ্ছে কিনা।

ফলের রস

০-৪ মাস: দেবেন না

৫-৮ মাস: ১/৪-১/২ কাপ

৯-১২ মাস: ১/২ কাপ

মাছ, মাংস, ডিম, ডালজাতীয় খাবার

০-৫ মাস: দেবেন না

৬-৮ মাস: ১-২ টেবিল চামচ করে, সেদ্ধ ও থেঁতো অবস্থায়

৯-১২ মাস: ১/৪-১/২ কাপ (ছানা, চিজ, মাছ, ডিম, নরম করে সেদ্ধ করা মাংসের ছোট ছোড় টুকরো)

দই বা ইয়োগার্ট

০-৫ মাস: দেবেন না

৬-১২ মাস: ৬ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার পর থেকে দিনে ১-২ কাপ

জল

শিশুরা মায়ের দুধ, ফর্মুলা দুধ বা ফলের রস থেকেই তাদের প্রয়োজনমত জল পেয়ে যায়। তবে খুব গরম আবহাওয়া থাকলে দিনে ১/২-১ কাপ জল আলাদা করেও লাগতে পারে।

০-৫ মাস: খুব গরম পড়লে, বা শিশুর ডায়রিয়া হলে তবেই

৬-১২ মাস: শিশুর যতবার তেষ্টা পাবে ততবার

পরামর্শ: শিশু খুব শুকনো ধরনের কোনও নতুন খাবার প্রথমবার খাওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন যাতে তার গলায় আটকে না যায়।

শক্ত খাবার খাওয়ানো

৪-৬ মাস বয়সের মধ্যে, শিশু যদি নিজে নিজে মাথা উঁচু রাখতে পারে, তার ওজন জন্মের সময়ের দ্বিগুণ হয়ে যায়, উঁচু চেয়ারে বসতে সক্ষম হয় এবং মুখের কাছে খাবার আনলে মুখ খুলে গিলতে সক্ষম হয়, তাহলে সে শক্ত খাবার খেতে শুরু করার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। সাধারণত ৬ মাস বয়সের কাছাকাছিই এই সব শর্ত পূরণ হয়ে থাকে।

প্রথমে, বুকের দুধের পাশাপাশি শক্ত খাবার দিতে শুরু করুন, তার বিকল্প হিসেবে নয়। প্রথম “শক্ত” খাবারও আসলে তরলীকৃত অবস্থাতেই খাওয়াতে হবে। খুব ধীরে ধীরে ধৈর্য নিয়ে শিশুকে শক্ত খাবারের সঙ্গে পরিচিত করান, একদমই তাড়াহুড়ো করবেন না। শিশু কোন খাবারটা পছন্দ করছে না বা সহ্য করতে পারছে না সে দিকে নজর রাখুন।

শক্ত খাবারের তালিকা

শিশুকে তরলীকৃত খাবার দেওয়া হয়েছে, তার কী সহ্য হচ্ছে বা হচ্ছে না তাও মোটামুটি বোঝা গিয়েছে, অর্থাৎ এবার শিশু পুরোপুরি শক্ত খাবারের জন্য প্রস্তুত।

ভাত (সম্ভাব্য)

বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধের পাশাপাশি প্রথম খাবার হিসেবে ভাত খাওয়ানো খুবই সাধারণ একটা আচার। সাধারণত সব বাচ্চারই ভাত সহ্য হয়, আর অ্যালার্জির সম্ভাবনাও খুবই কম।

তবে, ভাত খাওয়ানোর ধারণাটা বিজ্ঞানের থেকে অনেক বেশি চিরাচরিত প্রথার ফসল। অন্যান্য একদানাবিশিষ্ট শস্যের তুলনায় ভাত খাওয়ানো বেশি উপকারী বলে কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। চেষ্টা করে দেখতেই পারেন।

সবজি

সবজিপাতি পুষ্টিগুণে ভরপুর, তবে ফলের মত মিষ্টি হয় না। মিষ্টি আলু, বিট, স্কোয়াশ বা গাজর সেদ্ধ ও থেঁতো করা সহজ; ফলে এইগুলি দিয়ে শুরু করাই ভালো।

ফল

সবজি খাওয়াতে শুরু করার পর ফল খাওয়াতে শুরু করবেন। ফল যেহেতু মিষ্টি, তাই এটা দিয়ে শুরু করলে শিশু তার পর থেকে সব খাবারই মিষ্টি হবে এটা ভাবতে শুরু করতে পারে। একেবারে প্রথম যে খাবার শিশু খাচ্ছে তার স্বাদ তার পরবর্তী জীবনে স্বাদের ধারণা গঠনে বিপুল প্রভাব ফেলে।

পরামর্শ: শিশুদের যেহেতু এই বয়সে ফ্রুক্টোজ (ফলে থাকা শর্করা বা চিনি) হজম করার ক্ষমতা তৈরি হয় না, তাই ফল পরিমিত পরিমাণে খাওয়ানোই ভালো। বেশি-ফাইবারযুক্ত ফল খাওয়াবেন না, তা থেকে ভয়াবহ ডায়রিয়া হতে পারে।

সেই পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে নিম্নলিখিত উপায়গুলি করে দেখতে পারেন:

বুকের দুধের সঙ্গে কলা থেঁতো করে খাওয়ানো

ন্যাশপাতি, আপেল বা পিচের মত ফল সেদ্ধ করে থেঁতো করা

উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার

এর মধ্যে আসবে ভাল করে সেদ্ধ ও থেঁতো করা ডাল/শিম ইত্যাদির বিচি/কড়াইশুঁটি এবং খুব সূক্ষ্ণভাবে কিমা করা মাংস। থেঁতো করা খাবার, ফর্মুলা দুধ ইত্যাদির সঙ্গে অল্প অল্প করে মালাই বা দুধের মাঠাও মিশিয়ে দিতে পারেন, এটিও প্রোটিনের উৎস। শিশুর পাকস্থলী এই সব কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছু সময় লাগতে পারে। মলের সঙ্গে হজম না হওয়া কিছু খাবার বেরোতেও পারে। এটা একেবারেই স্বাভাবিক, তাই ভয় পাবেন না।

এই সব বিষয়গুলি মাথায় রাখলেই আর শিশুর পুষ্টিসাধন করতে এবং একটা সুস্থ-সবল জীবনের জন্য তাকে প্রস্তুত করে তুলতে আপনার কোনও সমস্যা হবে না। মনে রাখবেন, মায়ের বুকের দুধ সব সময়েই সদ্যোজাত শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো খাদ্য, এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ফর্মুলা দুধ কখনওই বুকের দুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। শিশুকে নতুন খাবার খাওয়ানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করবেন না। তাড়াহুড়ো করলে শিশু তাড়াতাড়ি বাড়বে না, যথাযথ পুষ্টি পেলেই বাড়বে।