বাচ্চা খিদেয় কাঁদছে না অন্য কিছু : বুঝবেন কী ভাবে

বাচ্চা খিদেয় কাঁদছে না অন্য কিছু : বুঝবেন কী ভাবে

 

এই নিবন্ধটি বর্তমানে IAP বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা অধীনে; এখনো সম্পাদিত এবং অনুমোদিত এবং প্রযুক্তিগত এবং ভাষা ত্রুটি থাকতে পারে। দয়া করে এখানে ক্লিক করে সংশোধন এবং অনুমোদিত ইংরেজি সংস্করণ পড়ুন।

বাচ্চা কাঁদছে কেন, এটা সঠিক ভাবে ধতে পারা সবসময় সহজ নয়, বিশেষত প্রথম বার মা হলেন যাঁরা তাঁদের পক্ষে। বাচ্চার কান্নার হাজার একটা কারণ থাকতে পারে, আর কী উপায়ে তাকে শান্ত করা যাবে এটা বোঝা প্রথম প্রথম কঠিন বলে মনে হওয়াই স্বাভাবিক। তবে এটা নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়ার কিন্তু আসলে প্রয়োজন নেই। বাচ্চারা খিদে পেলে কাঁদে, আবার কখনও কখনও ব্যথা পেলে, বা শরীরে কোনও অস্বস্তি হলে, বা অন্য কারণেও কাঁদতে পারে। একটু চোখ-কান খোলা রাখলে ধীরে ধীরে বাচ্চার চাহিদা চিহ্নিত করার কাজটাও সহজ হয়ে আসবে।

বাচ্চার কান্নার ধরণ দেখে কী ভাবে তার চাহিদা বোঝা যায়, বা আদৌ যায় কি না, এই সবই এই নিবন্ধে আলোচিত হবে।

বাচ্চার কান্না শুনে কি মা সত্যিই বুঝতে পারেন সে কি চায়?

আত্মীয়-পরিজন অনেকেই আপনাকে বলবে যে শুধুমাত্র বাচ্চার কান্না শুনেই নাকি মা বুঝতে পারেন সে কী চায়। কিন্তু বাস্তবটা সব সময় সেরকম নয়; বস্তুত, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাচ্চার কান্না সবসময় একই রকম শোনাবে আপনার কানে। এবং সেটা মোটেই দোষের কিছু নয়।

সম্প্রতি আমেরিকায় ১০০ জন মাকে নিয়ে একটি সমীক্ষায় তাঁদের বলা হয়েছিল শুধুমাত্র শিশুর কান্না শুনে সে কী চায় তা চিহ্নিত করতে। বাচ্চার চাহিদা বোঝা তো দূর, এক তৃতীয়াংশের বেশি মা নিজের বাচ্চার কান্না অন্য বাচ্চাদের থেকে আলাদা পর্যন্ত করতে পারেননি।

বাচ্চার কান্না শুনে সে কি চাইছে এটা চিহ্নিত করতে পারার একমাত্র উপায় হল অভিজ্ঞতা; সব মা-ই এটা ধীরে ধীরে শেখেন। সবচেয়ে স্বাভাবিক এবং কার্যকরী পন্থা হল, যতক্ষণ না বাচ্চা শান্ত হচ্ছে নানা উপায়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে যাওয়া, এবং ঐ নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে শিশু কোনও একটা বিশেষ আচরণ করছে কিনা তা খেয়াল রাখা, যাতে পরের বার সেই একই আচরণ করলে আপনি তাকে শান্ত করার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন।

তাছাড়া, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কান্না মানেই যে তাদের কোনও অস্বস্তি হচ্ছে এমনটা কিন্তু নয়। বস্তুত, বিশেষজ্ঞরা বলেন খুব ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কান্নাটা খুব স্বাভাবিক একটা আচরণ, আর সেটা খুব গুরুতর কারণ ছাড়াই ঘটতে পারে, স্রেফ একঘেয়েমি থেকেও।

মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশুই আলাদা। কোনও কোনও বাচ্চা স্বভাবতই হাসিখুশি হবে, কেউ কেউ তার উলটো। এমনকি আপনার নিজেরই দুই বাচ্চার ক্ষেত্রেও চাহিদা জানান দেওয়ার পদ্ধতি একদম আলাদা আলাদা হতে পারে।

বাচ্চার খিদে পেয়েছে বুঝবেন কী করে

বাচ্চার খিদে পেলে সেই চাহিদা সে কেঁদেই জানান দেয়। তবে কান্নার সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ তাদের মধ্যে দেখা যায়, যা থেকে খিদে পেয়েছে কিনা বোঝা সম্ভব। যেমন হঠাৎ করে খুব চঞ্চল হয়ে যাওয়া, হাত-পা টানটান করা, ছটফটানি ইত্যাদি।

এই লক্ষণগুলো আসে প্রথমে, এইগুলোয় সাড়া না পেলে তখন আসে কান্না। খিদের কান্না সাধারণতঃ উঁচু স্বরে একটানা চলবে। গত এক ঘণ্টায় শিশুকে যদি না খাইয়ে থাকেন তবে প্রথম কাজটা হবে তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করা। প্রায়শই, বাচ্চারা কাঁদার সময় তাদের জিভ টাকরায় আটকে যায়, ফলে তারা স্তনবৃন্ত মুখে নিতে পারে না। কাজেই খাওয়াতে শুরু করার আগে তাকে শান্ত করতে হবে।

খাওয়াতে গিয়ে যদি বুঝতে পারেন যে খাওয়ার তার তেমন ইচ্ছা নেই, তাহলে সম্ভবত কান্নাটা অন্য কোনও কারণে।

অন্য যে যে কারণে শিশু কাঁদতে পারে

ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যোগাযোগ স্থাপনের প্রধান উপায়ই হল কান্না, কাজেই কী কী কারণে তারা কাঁদতে পারে এটা জানা থাকলে তাদের চাহিদা পূরণ করার ক্ষেত্রে অনেকটাই প্রস্তুত থাকতে পারবেন।

খিদে ছাড়া বাচ্চার কান্নার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলি হল :

১) শিশু ক্লান্ত হয়ে পড়েছে

খিদের মতোই, ক্লান্ত হয়ে গেলেও শিশুর মধ্যেই প্রায়শই বেশ কিছু লক্ষণ দেখা যায় যা থেকে এটা চিহ্নিত করা সম্ভব, যেমন বার বার হাই তোলা, চোখ কচলানো ইত্যাদি। এইভাবে নজর কাড়তে অসমর্থ হলে তখনই কান্না শুরু হয়। ক্লান্তির কান্না সাধারণত ছাড়া ছাড়া, হেঁচকি তুলে তুলে। এর সঙ্গে যদি চোখও লাল হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে সেটা শিশুর ক্লান্তির অন্যতম বড়ো লক্ষণ।

নিরুপদ্রব কোনও ঘরে নিয়ে গিয়ে বাচ্চাকে দোল খাওয়ান, আলতো করে ঘুমপাড়ানি গান করুন। বাচ্চা শান্ত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়বে।

২) শিশুর যন্ত্রণা হচ্ছে

বাচ্চার যন্ত্রণা হলে কান্না হবে তীব্র চিৎকার সহযোগে, স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু মাত্রায়। তার সঙ্গে চলবে হাত-পা ছোঁড়াছুঁড়ি। এমনটা হলে সঙ্গে সঙ্গে দেখুন কোথাও আঘাত লেগেছে কিনা। বারবার হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান, শিশুর শরীরের ভিতরকার কোনও সমস্যা হতে পারে।

৩) শিশু নজর কাড়তে চায়

অনেক সময় বাচ্চার কান্নার কোনও গুরুতর কারণ থাকে না, শুধু আপনার নজর কাড়ার চেষ্টা ছাড়া। একঘেয়েমি থেকেই কান্না শুরু হয়। একঘেয়েমি থেকে কাঁদলে বাচ্চা সাধারণত ছাড়া ছাড়া নীচু স্বরে ঘ্যানঘ্যানে কান্না কাঁদবে, যাতে আপনি বাধ্য হন তার দিকে নজর দিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সব ক্ষেত্রে বরং বাচ্চাকে সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্রয় দেবেন না। ঐ টুকু দেরির মধ্যে বাচ্চা অন্য কোনও আনন্দের বা কৌতূহলের উপকরণ খুঁজে পেয়ে যেতেই পারে, তাকে নিজে নিজে একঘেয়েমি কাটানোর জন্য কিছুটা সময় দিন। এটা শিশুর মধ্যে স্বনির্ভরতার বোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে, আর পরবর্তীকালে যখন শিশুকে ছেড়ে আপনাকে দূরে যেতে হবে, তা শিশুর মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দেয়, যাকে পোশাকি ভাষায় সেপারেশন-অ্যাঙজাইটি বলে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাকে সাহায্য করবে ছোট্ট থেকে তৈরি হওয়া এই স্বনির্ভরতার বোধটুকু।

বাচ্চা যে যে কারণে কাঁদতে পারে তার মাত্র কয়েকটাই এখানে বর্ণিত হল। মাথায় রাখা ভালো, যে বাচ্চারা অনেক সময় কোনও কারণ ছাড়াই কাঁদতে শুরু করে, এবং আপনি যাই করুন না কেন তাকে থামানো যাবে না। এমনটা যদি খুব ঘন ঘন না ঘটে, তা হলে একেবারেই স্বাভাবিক, এবং আপনার চিন্তা করার কিছু নেই। কিন্তু যদি ক্রমাগত এমন হতে থাকে এবং কোনও ভাবেই বাচ্চাকে শান্ত করতে না পারেন, তাহলে অবশ্যই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

মূল কথাটা হল, প্রতিটি শিশু আলাদা, এবং আপনার বোনের শিশু অথবা আপনার নিজেরই প্রথম শিশুর ক্ষেত্রে যে পন্থা কাজে দিয়েছে, পরের বার হয়তো তা কাজে দেবে না। কাজেই জরুরি হল, সবসময় নতুন নতুন পন্থা চেষ্টা করে যাওয়া এবং যেগুলো কাজে দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে সেগুলো বজায় রাখা।