শিশুর খাদ্যে অরুচি বা ক্ষুধামন্দা কিভাবে মোকাবেলা করবেন

শিশুর খাদ্যে অরুচি বা ক্ষুধামন্দা কিভাবে মোকাবেলা করবেন

 

এই নিবন্ধটি বর্তমানে IAP বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা অধীনে; এখনো সম্পাদিত এবং অনুমোদিত এবং প্রযুক্তিগত এবং ভাষা ত্রুটি থাকতে পারে। দয়া করে এখানে ক্লিক করে সংশোধন এবং অনুমোদিত ইংরেজি সংস্করণ পড়ুন।

 

 

মা-বাবার জন্য তাদের ছোট্ট সন্তানকে কোলে নেয়া সারা পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মুহূর্ত। তাদের বুকের ধন সঠিকভাবে খাচ্ছে না দেখাটাও তাদের সীমাহীন চিন্তার বিষয়। বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানকে একজন সুস্থ্য সবল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকেন। পুষ্টি একটি পরিপূর্ণ বিকাশের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে দেয়।

ক্ষুধামন্দা কি

নিয়মিতভাবে খাওয়ার ইচ্ছা হ্রাস পাওয়াকে ক্ষুধামন্দা বলা যায়। তবে এটি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, প্রাপ্তবয়স্কদের মতো একটি সুনির্দিষ্ট নমুনায় নয়, একটি শিশুর ক্ষুধা দিনের পর দিন এবং কখনও কখনও খাবারভেদে পরিবর্তিত হয়। এবং সবাই এতে একমত হবেন যে ‘শিশু তার নিজের মর্জি মাফিক এবং শুধুমাত্র ক্ষুধার্ত হলে খায়’।

শিশুর ক্ষুধামন্দায় ভূমিকা রাখে এমন অনেকগুলো কারণ রয়েছে। অনেক সময়, এটি শুধু একটি ক্ষণস্থায়ী পর্যায় যখন শিশুটির কাছে খাদ্য তার চারপাশের জগৎকে আবিষ্কার করার তুলনায় কম গুরুত্বের। এজন্য বলা হয়, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আপনার বাচ্চার কম বা মোটেই না খেতে চাওয়ার অভ্যাস উদ্বেগের কারণ হতে পারে। যদি একটি শিশু ক্ষুধামন্দায় ভোগে, তবে সে জালাতন করা, বমি, কাশি এবং তার প্রিয় খাবারের প্রতি অনাসক্তি দেখিয়ে থাকে।

ক্ষুধামন্দা/খাদ্যে অরুচির কারণ

১। বৃদ্ধির হার

একটি শিশুর বৃদ্ধির হার ০-৬ মাস থেকে দ্রুততম, এরপর ৬-১২ মাস থেকে ধীরে ধীরে হওয়া শুরু হয় এবং ১২-১৮ মাসে আরও ধীরে হয়। ১২ মাসের তুলনায় (১৪-১৫ মাস বয়সী) একটি শিশুর কম খাদ্য খাওয়ার হতে পারে। সেক্ষেত্রে কিছুক্ষন অন্তর অন্তর অল্প করে খাওয়ানোর যেতে পারে যাতে করে সে বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে।

২। দাঁত ওঠা

বেশীরভাগ শিশুদের প্রায় ৮-১০ মাসে নতুন দাঁত ওঠে এবং এই বিশেষ সময়টিতে অস্বস্তি ও ব্যথার কারণে ক্ষুধামন্দা হতে পারে। প্রায়ই শিশুদের ৫ম – ৭ম মাসে দাঁত ওঠা শুরু হয়।দন্তোদ্গমকালীন খেলনা ছাড়াও ভর্তা খাবার (গাজর, মিষ্টি কুমড়া, কলা, শস্য, ভাত) ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।

৩। তরল পান

শিশুর কম খাওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে সে জল, জুস এবং দুধ প্রচুর পরিমাণে পান করছে। ৬ মাস পর্যন্ত ন্যূনতম জল দেয়ার সুপারিশ করা হয়, যেহেতু দুধ হতে সে যথেষ্ট পরিমানে জল পেয়ে থাকে। এবং শিশুর জন্য, একবার ভালভাবে দুধ পান করালেই হয়। একবারেই বেশী করে দুধ না খাইয়ে বরং তা কয়েকবারে খাওয়ালে সে অন্যান্য খাবারগুলিও খাওয়ার সুযোগ পাবে।

৪। অসুস্থতা

সবচেয়ে ভীতিকর ব্যাপার হল যখন আপনার সন্তানের সংক্রমণ থাকে। ভাইরাস অথবা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ (ফ্লু, কানের সংক্রমণ, গলা ব্যাথা, সর্দি) ব্যথা এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে এবং এর ফলে খাদ্যাভাসে প্রভাব পড়ে।অসুস্থতার সাথে সম্পর্কিত শিশুর আচরণগত পরিবর্তন দেখলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

কৃমির সংক্রমণ ক্ষুধামন্দার আরেকটি কারণ। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সময়মত ডিওয়ার্মিং বা কৃমিমুক্ত করা খুবই জরুরি।

অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা হল এর আরেকটি কারণ এবং এর ফলে শিশুর সহজেই দুর্বলতা এবং ক্লান্তি বোধ প্রকাশ পায়। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগের ক্ষেত্রে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৫। খাবার অপছন্দ

একটি শিশুর নতুনভাবে দেয়া খাবার পছন্দের জন্য সময় লাগতে পারে। ধৈর্য, বারবার চেষ্টা, একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা, তাকে নিজে থেকে খাওয়ার চেষ্টা করার সুযোগ দেয়া, জোর করে বেশী না খাওয়ানো তাকে খেতে উৎসাহিত করতে পারে।

এর আরেকটি কারণ হতে পারে যে শিশু প্রতিদিন একই খাবার পছন্দ করে না। ভিন্ন ধরণের এবং স্বাদযুক্ত খাবার চেষ্টা করুন। কিছু খাবার হজমে অনেক সময় লাগতে পারে এবং তাই শিশুর দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা অনুভব করতে পারে।

কখন আমাকে চিন্তিত হতে হবে?

মনে রাখবেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্ষুধামন্দা শুধুমাত্র কিছু সময়ের জন্য/ক্ষণস্থায়ী হয়। কিন্তু শিশু যদি ন্যূনতম এক সপ্তাহ বা তারও বেশী সময় ধরে খেতে না চায়, তবে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ক্ষুধামন্দার সাথে যদি জ্বর / ত্বকে লাল ফুসকুড়ি / পেট ফোলা যোগ হয় তাহলে ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন। সন্তানের পছন্দ / অপছন্দ নিবিড়ভাবে বুঝতে এবং সে অনুযায়ী অনুযায়ী মানিয়ে নিতে আপনাকে তাকে ধৈর্য সহকারে সামলাতে হবে।

কিভাবে ক্ষুধা বাড়ানো যায়

বেশীরভাগ খাদ্যে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে খাদ্যাভাস উন্নত করা যায়।

জিংক সমৃদ্ধ খাবার হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড উত্পাদন করে যা সঠিকভাবে হজমে সহায়তা করে। যেমন, মুরগির মাংস।

হজমের জন্য যথেষ্ট সময় দিতে সমান বিরতিতে খাবার খাওয়ান।

ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে এমন খাবার খাওয়ান। আজওয়েন ও বাসিল/পুদিনা এর চমৎকার উদাহরণ। কয়েকটি আজওয়েন বীজ ও পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটানো পানি পান করাতে পারেন। ১৮ মাসের বেশি বয়সী বাচ্চাদের খাবারে কিছু বীজ যোগ করা যেতে পারে।

সর্বোপরি একটি শিশুর খাদ্যে সুষম খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিয়মিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু সুস্থ অভ্যাস তাদেরকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করবে।