আমার বাচ্চা যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে তো?

আমার বাচ্চা যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে তো?

 

এই নিবন্ধটি বর্তমানে IAP বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা অধীনে; এখনো সম্পাদিত এবং অনুমোদিত এবং প্রযুক্তিগত এবং ভাষা ত্রুটি থাকতে পারে। দয়া করে এখানে ক্লিক করে সংশোধন এবং অনুমোদিত ইংরেজি সংস্করণ পড়ুন।

শিশুর পুষ্টিসাধনের জন্য যতটা পরিমাণ দুধ পর্যাপ্ত হয়, বেশিরভাগ মা-ই তা উৎপাদন করতে সক্ষম হন। স্তন্যদাত্রী মায়েদের মধ্যে পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদন হয় না ৫ শতাংশেরও কম মায়ের।

শিশু পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে কিনা এ বিষয়ে সংশয়ে থেকে থাকলে কোনও ধাইমা, স্বাস্থ্যকর্মী বা স্তন্যদান বিশেষজ্ঞর সাহায্য নিতে পারেন। তাঁরা আপনার দুধ খাওয়ানোর সময়ে উপস্থিত থেকে শিশু ঠিকঠাক জায়গায় আছে কিনা, সঠিক ভাবে মুখে স্তনবৃন্ত ধরতে পারছে কিনা, এবং পর্যাপ্ত দুধ খাচ্ছে কিনা এই সব বিষয়ে আপনাকে জরুরি পরামর্শ দিতে পারবেন।

শিশু ঠিকভাবে মুখে বুক ধরেছে কি না তার লক্ষণ :

  • শিশুর মুখের হাঁ চওড়া হয়ে আছে এবং বুকের অনেকটা অংশ তার মুখের ভিতর আছে।
  • শিশুর চিবুক আপনার বুক স্পর্শ করে আছে, নিচের ঠোঁট উলটে বেরিয়ে আছে (এটা অবশ্য সব সময় আপনার পক্ষে দেখা সম্ভব নয়), এবং তার নাক আপনার বুকে থেবড়ে নেই।
  • দুধ খাওয়ানোর সময় বুক বা বৃন্তে আপনি কোনও ব্যথা অনুভব করছেন না, যদিও প্রথম কয়েকটা টান একটু জোরালো মনে হতে পারে।
  • বৃন্তের চারপাশের কালচে অংশ শিশুর মুখের নীচ দিয়ে যতটা বেরিয়ে আছে, মুখের উপর দিয়ে বেরিয়ে আছে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ।

দুধের সরবরাহ বাড়ানোর উপায়:

  • যত দিন না বুকের দুধ খাওয়ানোর একটা নির্দিষ্ট অভ্যাস তৈরি হয়, শিশুকে বোতলের ফর্মুলা দুধ বা চুষি জাতীয় জিনিস দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
  • যতবার পারছেন এবং যতবার শিশু চাইছে প্রতিবারই দুধ খাওয়ান।
  • স্তন্যপানের অভ্যাস তৈরি হয়ে গেলে পর প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পর কিছুটা করে বুকের দুধ এমনিই বার করে দিলে দুধের জোগান বাড়তে সাহায্য হয়।
  • প্রতিবার খাওয়ানোর সময় দু’টি স্তনেই খাওয়ান, একেকবার এক এক স্তন দিয়ে শুরু করুন।
  • শিশুকে সবসময় নিজের কাছে, গায়ে স্পর্শ করে রাখুন। এতে করে শিশু কান্না শুরু করার আগেই তার খিদে পেয়েছে কিনা বুঝতে সাহায্য হবে।
  • খুব বিরল ক্ষেত্রে দুধের জোগান বাড়ানোর জন্য ওষুধ খেতে হতে পারে, তবে সাধারণত তার প্রয়োজন হয় না।

যে বিষয়গুলি দুধের জোগানে প্রভাব ফেলতে পারে:

  • ভুল ভাবে শিশুকে ধরা এবং ঠিক করে মুখ না লাগানো।
  • যথেষ্ট বার শিশুকে না খাওয়ানো।
  • স্তন্যপানের সময়কালে ধূমপান ও মদ্যপান করা; এই দু’টি অভ্যাসই দুধের জোগানকে ব্যাহত করতে পারে।
  • স্তনে অস্ত্রোপচার থাকা, বিশেষ করে যসি স্তনবৃন্ত বাদ দেওয়া হয়ে থাকে।
  • শিশুর জন্মের পর তার থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হওয়া, যেমন, সময়ের আগে জন্মানো শিশুদের ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে হাত দিয়ে আলতো করে বারবার স্তনে চাপ দেওয়া বা মালিশ করায় সাহায্য হতে পারে।
  • আপনি বা শিশু কোনও অসুখে ভুগলে।
  • স্তন্যপানের অভ্যাস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে শিশুকে বোতলের ফর্মুলা দুধ বা চুষিজাতীয় খেলনা দিলে।
  • কিছু নির্দিষ্ট ধরণের ওষুধ খাওয়া, যেমন ডোপামাইন, এরগোটামাইন, পাইরিডক্সাইন ইত্যাদি।
  • অবসাদ, দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ।
  • শিশুর জিভে জড়তা রয়েছে যাতে জিভের নড়াচড়া বাধাপ্রাপ্ত হয়।

শিশুকে কতবার দুধ খাওয়ানো স্বাভাবিক?

এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক যাকে বলা যায় সেই পরিসরটা অনেকটাই বড়। কিছু কিছু বাচ্চা সারাক্ষণ দুধ খেতে চায়, শুধু খিদে পেয়েছে বলেই নয়, এটায় তাদের ভালো লাগে বলেও। কেউ কেউ আবার পেটের তাড়া না পেলে দুধ খাওয়ার চেষ্টাই করে না।

প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শিশু তন্ত্রাচ্ছন্ন থাকে, তাই খুব বেশিবার দুধ খেতে নাও চাইতে পারে। তারপর থেকে মোটামুটি নিম্নলিখিত রোজনামচা স্বাভাবিক বলে ধরা যেতে পারে:

১-৭ সপ্তাহ

প্রতি ২-৩ ঘণ্টা অন্তর

রোজ দিনে ১২ বার

সংখ্যাটা অনেকটা মনে হতে পারে, বাচ্চা প্রতি বার যথেষ্ট দুধ আদৌ পাচ্ছে কিনা এমন সংশয়ও হতে পারে, কিন্তু মনে রাখবেন, নতুন মানুষটির পেটটা আসলে খুবই ছোট্ট, তাই বার বার করে ভরার দরকার পড়ে!

১-৫ মাস

প্রতি আড়াই-সাড়ে ৩ ঘণ্টা অন্তর

রোজ দিনে ৭-৯ বার

বাচ্চা যত বড় হবে, আর দুধ খাওয়ার বিষয়ে সড়গড় হতে থাকবে, তার দু’বার খাওয়ার মাঝে সময়টা বাড়তে থাকবে, এবং সার্বিক ভাবেই আপনার বুকে সে কম সময় কাটাবে।

৭ মাস ও তার পরে

প্রতি ৫-৬ ঘণ্টা অন্তর

রোজ দিনে ৪-৫ বার

এই বয়সটায় পৌঁছে আপনি যতক্ষণ দুধ খাওয়াচ্ছেন ততক্ষণই শিশু দুধ খেতে সমর্থ হবে।

বুকের দুধ কতটা পাম্প করা যথাযথ?

শিশুকে যদি বুকের দুধ পাম্প করে বার করে খাওয়ান, তাহলে নীচের নির্দেশিকাটি মেনে চললে উপকার পাবেন:

১ মাস বয়স পর্যন্ত, বেশিরভাগ বাচ্চাই ২৪ ঘণ্টায় ২০ থেকে ২৪ আউন্স মত দুধ খেতে পারে, প্রতি বার আড়াই থেকে ৩ আউন্স করে ৮ বার যদি খাওয়ানো হয় সেই হিসেবে।

৬ মাসের মধ্যে শিশু দিনে ৬-৮ বারে মোট ২৪-৩০ আউন্স করে দুধ খেতে শুরু করবে। শক্ত খাবার খেতে শুরু করার পর দুধ খাওয়ার পরিমাণ কিছুটা কমবে।

মনে রাখবেন, এটা শুধুই একটা ওপর ওপর চিত্র; আপনার ৬ মাসের বাচ্চা যদি দিনে ৩০ আউন্স করে দুধ খেতে না চায় তাহলে জোর করে খাওয়ালে হিতে বিপরীত হতে পারে।

নীচের সারণীটিতে শিশুর মোটামুটি কতটা করে দুধ লাগতে পারে তার একটা গড়পড়তা ধারণা দেওয়া হল:

শিশুর বয়স প্রতি বার খাওয়ানোয় দুধের পরিমাণ
দিন ১ (০-২৪ ঘণ্টা) ৭ মিলিঃ (এক চা-চামচের একটু বেশি)
দিন ২ (২৪-৪৮ ঘণ্টা) ১৪ মিলিঃ (৩ চা-চামচের একটু কম)
দিন ৩ (৪৮-৭২ ঘণ্টা) ৩৮ মিলিঃ
দিন ৪ (৭২-৯৬ ঘণ্টা) ৫৮ মিলিঃ
দিন ৭ (১৪৪-১৬৮ ঘণ্টা) ৬৫ মিলিঃ

 

বাচ্চাকে অতিরিক্ত দুধ খাইয়ে ফেলা কি সম্ভব?

হ্যাঁ, বোতলে করে দুধ খাওয়ালে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফর্মুলা বা বুকের দুধ খাইয়ে ফেলা খুবই সহজ। বুকের দুধ খাওয়া শিশু অল্প পরিমাণ দুধ খেয়েও বুকে আরাম নিতে পারে, বা যতটুকু তেষ্টা পেয়েছে শুধু ততটুকুই খেয়ে নিতে পারে, কিন্তু বোতলে দুধ খাওয়া শিশুর পক্ষে সেটা করা সহজ নয়।

বোতলে দুধ খাওয়ার সময় শিশুর যদি বা অল্প দুধেরও প্রয়োজন হয়ে থাকে, প্রায়শই সে বেশি দুধ খেয়ে ফেলে, কারণ বুকে যে গতিতে দুধ আসে বোতলে তার চেয়ে অনেক তাড়াতাড়ি দুধ বেরোয়।

বোতলে দুধ খাওয়ানোর সময় অতিরিক্ত খাওয়া এড়াবো কী করে?

  • ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে খাওয়ান এবং মাঝে মাঝে একটু করে বিরতি নিন যাতে বাচ্চার যথেষ্ট খাওয়া হয়ে গেলে সে আপনাকে বোঝানোর সুযোগ পায়।
  • বাচ্চা যদি খুব হড়বড় করে বোতলে করা বুকের দুধ খেয়ে ফেলছে বলে মনে হয়, প্রতি ৯-১০ টানের পর একবার করে থেমে তাকে শ্বাস নিয়ে নিতে দিন। বিশেষ করে প্রথম মাস দুয়েকে এটা করা খুবই জরুরি, যত দিন না বাচ্চা নিজে নিজে খাওয়ার গতি স্থির করতে শিখছে।
  • শক্ত খাবার খেতে শুরু করার পর থেকে বাচ্চা বুকের দুধ খাওয়া কমাতে শুরু করে। তার প্রথম জন্মদিনের কাছাকাছি সময়ে এসে বাচ্চা সাধারণতঃ দিনে ৩-৪ বার করে বুকের দুধ খাবে।
  • বাচ্চার এক বছর পূর্ণ হয়ে গেলে বোতলে বা ছোট কাপে করে খাঁটি গরুর দুধ খাওয়ানো শুরু করতে পারেন।
  • মনে রাখবেন, গরুর দুধ পুষ্টিকর হলেও বেশি বেশি করে খাওয়ানো খুব ভালো হবে না; তাতে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারে রুচি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত গরুর দুধ থেকে লোহার অভাবজনিত অ্যানিমিয়াও হতে পারে। দিনে ১৬-২৪ আউন্স দুধই যথেষ্ট।
  • এবং অবশ্যই, আপনি এবং আপনার বাচ্চা চাইলে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পরেও বুকের দুধ খাইয়ে যেতেই পারেন।
  • বাচ্চার রোজকার পুষ্টির অধিকাংশটা শক্ত খাবার থেকে গ্রহণ করতে শুরু করলেও, বুকের দুধ জরুরি ক্যালোরি, ভিটামিন, এনজাইম এবং প্রতিরোধ ক্ষমতার অন্যতম উৎস।

শিশু পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে তার লক্ষণ কী কী?

  • দুধ খাওয়ানোর পর বুক নরম হয়ে যায়; দুধ জমে গিয়ে এই শক্ত ভাব আসে, এবং তা শিশু দুধ কিছুটা খেয়ে নেওয়ার ফলে কমে যায়।
  • খাওয়ানোর পরে শিশুকে তৃপ্ত ও হাসিখুশি দেখায়।
  • জন্মের পর পরই যতটা ওজন কমেছিল, সেই ওজনটা ফিরে পাওয়ার পরেও শিশুর ওজন বাড়তে থাকছে (অধিকাংশ শিশুই প্রাথমিক ভাবে জন্মের সময়কার ওজনের প্রায় ৭ শতাংশ হারায়, এবং পরবর্তী ২ সপ্তাহে সেই ওজনে ফিরে যায়)।

কিছু সাধারণ লক্ষণ

১) ওজন বৃদ্ধি

জন্মের প্রথম চার মাসে শিশুর প্রতি সপ্তাহে ৬-৮ আউন্স ওজন বাড়ার কথা; এরপর ৪-৭ মাসের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৪-৬ আউন্স ওজন বাড়ার কথা।

২) ডায়াপার বদল

আপনার বুকে দুধ আসার পর দ্বিতীয় দিনে শিশু অন্তত ৬টি ডায়াপার ভেজাবে।

এর পরের কয়েক দিনে, যখন বাচ্চা শুধুই আপনার গাঢ় হলদেটে পুষ্টিগুণে ভরা প্রথম দুধ বা কলোস্ট্রাম পাচ্ছে, দিনে মাত্র একটা কি দুটো ডায়াপার ভিজবে।

কিন্তু সাধারণ বুকের দুধ পেতে শুরু করার পর থেকে আরও অনেক বেশি সংখ্যায় ডায়াপার ভিজবে বাচ্চার।

৩) মলত্যাগ

প্রথম মাসে, বাচ্চা দিনে কমপক্ষে তিন বার মলত্যাগ করবে। জন্মের ৫-৭ দিনের মধ্যে মলের রঙ হালকা হয়ে হলদে সরিষার মত রঙ হবে।

এক মাস বয়সের পর মলত্যাগের সংখ্যা কমে আসবে; মাঝে মধ্যে কয়েক দিনের জন্য মলত্যাগ বন্ধও থাকতে পারে।

৪-৬ মাস বয়সের মধ্যে শক্ত খাবার খেতে শুরু করার পর থেকে শিশু আবার দিনে একবার মলত্যাগ করার রোজনামচায় ফেরত যাওয়ার কথা।

বাচ্চা যথেষ্ট বুকের দুধ পাচ্ছে না তার লক্ষণ কী কী?

  • বাচ্চার ওজন কমেই যাচ্ছে। জন্মের ৫ দিন পর থেকে যদি বাচ্চার ওজন বাড়তে শুরু না করে, বা এর পরের কোনও সময় যদি তার ওজন কমতে শুরু করে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • জন্মের ৫ দিনের সময়সীমার পরে শিশু ২৪ ঘণ্টায় ৬টির কম ডায়াপার ভেজাচ্ছে।
  • প্রথম ৫ দিনের সময়সীমার পরে ছোট আকারের গাঢ় রঙের মলত্যাগ করছে।
  • বাচ্চার মূত্রের রঙ খুবই গাঢ়, প্রায় আপেল জুসের মত (মূত্রের রঙ সাদাটে বা স্বচ্ছ হলে বোঝা যাবে শিশুদেহ যথেষ্ট তরল পাচ্ছে। যদি তা গাঢ় হয় তবে তা শিশুদেহে তরলের অভাবের লক্ষণ হতে পারে)।
  • অধিকাংশ সময়েই শিশু খিটখিটে বা নিস্তেজ হয়ে থাকছে। বুকে দুধ খাওয়াতে গেলেই ঘুমিয়ে পড়ছে, কিন্তু বুক থেকে সরিয়ে নিলেই বিরক্ত হচ্ছে।
  • শিশুর চোখ-মুখ শুকনো দেখাচ্ছে।
  • দিনের পর দিন ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে বুকের দুধ খাইয়ে গেলেও শিশু কিছুতেই তৃপ্ত হচ্ছে না।
  • দুধ খাওয়ানোর পর আপনার বুক নরম হয়ে যাচ্ছে না।
  • দুধ খাওয়ানোর সময় বাচ্চার ঢোঁক গেলার আওয়াজ পাচ্ছেন না। (তবে, কিছু কিছু বাচ্চা স্বভাবতই নিঃশব্দে খায়, কাজেই অন্যান্য লক্ষণগুলো সদর্থক থাকলে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই)।

শিশু পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পেলে কী হতে পারে?

সেক্ষেত্রে শিশুর ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলবিয়োজনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, তার বাড়বৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে। এই সমস্যাগুলো বিরল, কিন্তু গুরুতর।

যদি কোনও ভাবে সন্দেহ হয় যে শিশু যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে না, সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখান বা কোনও নার্স বা স্তন্যদান বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন।

পর্যাপ্ত দুধ খাওয়ার পরিমাণের সঠিক মানদণ্ড নয় যে বিষয়গুলি:

আপনার বুক ভারী ভারী লাগছে না। প্রথম কয়েক দিন বা সপ্তাহের পর থেকে অধিকাংশ মায়ের ক্ষেত্রে বুক ভারী না লাগাটাই স্বাভাবিক। শিশুর চাহিদা অনুযায়ী আপনার শরীর নিজেকে মানিয়ে নেয়। এই পরিবর্তন হঠাৎ করেই আসতে পারে।
কোনও কোনও মা একদম সঠিক ভাবে স্তন্যদান করেও কখনওই বুক ভারী বোধ করেন না।

শিশু সারা রাত ধরে ঘুমোচ্ছে। তার মানেই কিন্তু এটা নয় যে সে তৃপ্ত বা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে। খুব বেশি তন্দ্রালু হলে সেটা বরং নিস্তেজ হয়ে পড়ার তথা যথেষ্ট দুধ না পাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

দুধ খাওয়ার পর শিশু কাঁদছে। শিশু আরও অনেক কারণেই কাঁদতে পারে।

শিশু বার বার দুধ খাচ্ছে, এবং অনেকক্ষণ ধরে খাচ্ছে।
প্রথম ১০ মিনিটে শিশু এক বারের পরিমাণের ৯০ শতাংশ খেয়ে নেয় বলে যে ধারণাটি রয়েছে সেটি ভুল। শিশু যদি বুকের নিয়মিত বুকের দুধ টানে, এবং প্রতি দিন অন্তত ২-৩ বার হলুদ রঙের মলত্যাগ করে, তার কতটা খেতে লাগবে সেই বিষয়টা শিশুর উপরেই ছাড়ুন।

আপনি বুকে চাপ দিলে মাত্র আধ আউন্স মত দুধ বার হচ্ছে। এই বিষয়টার প্রভাব আপনার উপর পড়াই উচিত নয়। কাজেই বুক পাম্প করে দুধ বার করা থেকে বিরত থাকুন।
অধিকাংশ মায়েরই বুকে শিশুর জন্য যথেষ্ট দুধ থাকে। সমস্যাটা হয় যখন শিশু সেই দুধ পায় না, কারণ সে মুখে ঠিকমত ধরতে পারছে না, বা দুধ ভালো ভাবে উৎসারিত হচ্ছে না। এক্ষেত্রে বুকে মালিশ করলে ফল পাওয়া যেতে পারে।

দুধ খাওয়ানোর পরেও বাচ্চা মুখে বোতল নিতে আপত্তি করছে না। এর মানেই যে বাচ্চার খিদে তখনও মেটেনি, তা কিন্তু নাও হতে পারে। বোতলে খাওয়ালে স্তন্যদানে প্রভাব পোড়তে পারে, কারণ বাচ্চারা প্রায়ই বোতল থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তরল টেনে ফেলে।
এছাড়া, জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে বুকে দুধের প্রবাহ ধীর হয়ে গেলে বাচ্চাদের পেট না ভরলেও তারা বুকেই ঘুমিয়ে পড়তে পারে। আরেকটু বড় হলে (৪-৬ সপ্তাহ বয়সে), ঘুমিয়ে হয়তো আর পড়বে না, কিন্তু মুখ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বা কান্নাকাটি শুরু করতে পারে। এর মানে দুধের জোগানে পরিবর্তন এসেছে তা নয়, আপনার বাচ্চাই বদলে গেছে।
যথাসম্ভব দৃঢ়ভাবে বাচ্চার মুখে স্তন রাখুন, এবং মালিশ করার মাধ্যমে দুধের প্রবাহ বাড়ান।

উপসংহার

বাচ্চা যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে কি না তা নিয়ে নতুন মায়েদের চিন্তা লেগেই থাকে। কিন্তু অন্য কোনও ধরণের দুধই মায়ের দুধের বিকল্প হতে পারে না। অন্তত ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ ছাড়া বাচ্চার আর কোনও খাদ্যই প্রয়োজন নেই। এই পুরো সময়টা জুড়ে বাচ্চা আসলে কতটা দুধ খায় তা হিসেব করা সম্ভবই নয়। কাজেই খেয়াল রাখুন ১) খাওয়ানোর পর শিশু তৃপ্ত ও হাসিখুশি আছে কিনা, এবং ২) তার শরীর-স্বাস্থ্য সতেজ আছে এবং ওজন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে কিনা। সাধারণ ভাবে এই শর্তগুলি পূরণ হয়ে থাকলে আপনার দুশ্চিন্তার কোনও কারণ থাকবে না।