মায়ের দুধ ছাড়ানো: কখন করবেন, কী ভাবে করবেন

মায়ের দুধ ছাড়ানো: কখন করবেন, কী ভাবে করবেন

 

এই নিবন্ধটি বর্তমানে IAP বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা অধীনে; এখনো সম্পাদিত এবং অনুমোদিত এবং প্রযুক্তিগত এবং ভাষা ত্রুটি থাকতে পারে। দয়া করে এখানে ক্লিক করে সংশোধন এবং অনুমোদিত ইংরেজি সংস্করণ পড়ুন।

মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানো বা চলিত কথায় মাই ছাড়ানো হল শিশুকে বুকের দুধ থেকে সরিয়ে অন্য পৌষ্টিক উৎসের দিকে নিয়ে যাওয়া, মূলত শক্ত খাবার। বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ ছাড়া খাদ্য গ্রহণের অন্য পন্থাগুলির সঙ্গে শিশুর পরিচয় ঘটানো এবং তার স্বাদগ্রহণের অভিজ্ঞতাকে বিস্তৃত করার জন্য ধীরে ধীরে শক্ত খাবার খাওয়াতে শুরু করা দরকার। বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ দিয়ে বাড়ন্ত বাচ্চার পুষ্টির চাহিদা বেশি দিন মেটানো যাবে না। শীঘ্রই শিশুর দেহ তার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য অন্য পৌষ্টিক উপাদানের খোঁজ করা শুরু করবে।

এই ধাপে ধাপে পরিচয় ঘটানোর প্রক্রিয়াটিই হল মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানো, যেখানে মায়ের তরফে ধৈর্য ও সহমর্মিতা থাকাটা ভীষণ জরুরি। শিশু এক-দু’দিনেই শক্ত খাবার খেতে শিখে যাবে এমন আশা করাটা অন্যায়। এমন হতেই পারে যে শিশুর হয়তো স্বাদ বা গন্ধটা পছন্দ হল না, বা খাবার যে শক্ত হতে পারে এই বিষয়টার সঙ্গেই সে তখনও মানিয়ে উঠতে পারছে না। আবার এমনও হতে পারে যে চট করে ভালো লেগে গেল। এই সর্বৈব নতুন অভিজ্ঞতাটার সঙ্গে শিশু কী ভাবে মানিয়ে নেবে সেটা আগে থেকে কেউই বলতে পারেন না, কাজেই শিশুকে এই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে হাতে ধরে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বটা মায়েরই।

মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানো কখন থেকে শুরু করবেন

প্রসবের পর প্রথম ৬ মাস শিশু তার প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ আহরণ করে মায়ের বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ থেকে। স্তন্যদান আপনার শিশুকে নানা রকম অসুখ ও সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে, কিন্তু একটা সময় আসবেই যখন বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক নিয়মেই শিশু মায়ের দুধ থেকে সরে অন্যান্য খাদ্যের দিকে যাবে। আপনি বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ খাওয়ানো চলাকালীনই শক্ত খাবারের সঙ্গে শিশুর পরিচয় ঘটানো শুরু করতে পারেন, কারণ বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ শিশুর আহারের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শিশু শক্ত খাবারের জন্য প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে তারা দ্রুত নিজে নিজে খাওয়া শুরু করতে পারবে, এবং খাবার গেলাও সহজ হবে তাদের পক্ষে। তবে খুব তাড়াহুড়ো করার সেরকম দরকার নেই, কারণ মাই ছাড়ানো একটা দ্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং সাধারণতঃ ষষ্ঠ মাস থেকে তা নিজে নিজেই শুরু হয়ে যায়।

শক্ত খাবার খাওয়ানোর আগে ৬ মাস বয়স অবদি অপেক্ষা করলে খাবার হজম না হওয়া এবং অ্যালার্জির সমস্যার ঝুঁকি কম থাকে। শিশুর দেহে খাদ্যের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে এই সময়টা লাগে। তবে, আপনার যদি মনে হয় ৬ মাসের আগেই আপনার শিশু শক্ত খাবার খেতে প্রস্তুত, তাহলে তা দেওয়া শুরু করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নেবেন; বিশেষ করে শিশু যদি নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মে থাকে।

যে সব লক্ষণ দেখে বুঝবেন যে শিশু শক্ত খাবারের জন্য প্রস্তুত তার কিছু নীচে দেওয়া হল:

  • শিশু পিঠে ঠেকা দিয়ে একা একা চেয়ারে বসতে পারছে
  • শিশুর মাথা ও ঘাড় স্থির থাকছে
  • শিশু হাঁ করে মুখে চামচ নিতে ও তারপর মুখ বন্ধ করতে পারে
  • শিশু চিবোতে পারছে
  • শিশু কৌতূহলী হয়ে উঠেছে এবং খাবার দেখলে মুখে পোরার চেষ্টা করে
  • বুকের দুধ/ফর্মুলা খাওয়ানোর পরেও তার খিদে মিটছে না এবং খাবার সম্পর্কে কৌতূহল দেখাচ্ছে

মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানোর বিভিন্ন পদ্ধতি

মাতৃদুগ্ধ ছাড়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ভাবে ঘটতে পারে, আবার মায়ের সক্রিয় চেষ্টাতেও হতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানো চলাকালীনই বাচ্চা যখন নিজে থেকে শক্ত খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায় সেটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অন্য দিকে মা যখন সচেতন ভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো কমিয়ে বাচ্চাকে শক্ত খাবার খাওয়ানো শেখানোর চেষ্টা করছেন, সেটা সক্রিয় পদ্ধতি। এই দুই পদ্ধতিতে দু’ধরণের শিশু-অভ্যাস তৈরি হয়।

৪ থেকে ৬ মাস বয়সের আগে থেকে যে শিশুরা অন্যান্য তরল ও শক্ত খাবার খেতে শুরু করে, তাদের প্রথম বছরের দ্বিতীয় ভাগে অর্থাৎ শেষ ৬ মাসে তারা নিজেদের পৌষ্টিক চাহিদা মেটাতে ঐ খাবারগুলির উপরেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে, যে সময়টায় অন্য শিশুরা তখনও মায়ের দুধেই পুরোপুরি পুষ্ট হয়।

সক্রিয় মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানোর প্রক্রিয়ায় যেখানে ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে অন্য খাদ্য ও পানীয় দেওয়া হয়, সে সব ক্ষেত্রে শিশুরা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা আগেই মাতৃদুগ্ধে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। প্রায়শই দেখা যায় তারা মায়ের বুক ছেড়ে অন্যান্য আরামদায়ক খেলনাপাতিকে আঁকড়ে ধরছে।

দ্রষ্টব্য: আপনি যদি মাই ছাড়াতে না চান, তা হলে ৯ মাস বা তার কিছু পরের সময়কালটিতে সাবধানে থাকতে হবে; এই পর্বটা এ ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং খেয়াল রাখা দরকার যাতে কোনও ভাবেই আপনার বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাসটি বাধাপ্রাপ্ত না হয়।

পরামর্শ: আপনার যদি মনে হয় বাচ্চা বুকের দুধ খেতে থাকলে আপনার পক্ষে তার যত্ন নেওয়া সহজ হবে, তা হলে দিনে কয়েক বার করে তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে দ্বিধা বোধ করবেন না, যত দিন না সে নিজে নিজেই এই পর্যায় থেকে বেরিয়ে আসে।

মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানোর ৩ দিনের নিয়ম

দিন পরিমাণ সময়
প্রথম দিন ১ টেবিল চামচ দুপুরের খাবার
দ্বিতীয় দিন ২ টেবিল চামচ সকাল ও দুপুরের খাবার
তৃতীয় দিন ৩ টেবিল চামচ সকাল ও দুপুরের খাবার

দেখতেই পাচ্ছেন, এক এক দিনে খাবারের পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে। এখানেই আপনার ধৈর্য ও সহমর্মিতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শিশু এখনও যে খাবার চেনে তাকে হড়বড় করে অনেকটা সেই সব খাবার খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তার বদলে, খুব অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকুন যতক্ষণ না শিশু এই নতুন খাবারের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যায়। নতুন খাবার চালু করার জন্য রাতের খাবার বা ঘুমের আগের চেয়ে সকালের বা দুপুরের খাবারই শ্রেয়, কারণ কোনও খাবার খেয়ে শিশুর অস্বস্তি বা অ্যালার্জি হচ্ছে কিনা তা দেখার সময় পাবেন আপনি।

কোন কোন শক্ত খাবার দেবেন

  • থেঁতো করা কলা
  • আপেল সেদ্ধ
  • ভালো করে সেদ্ধ করে থেঁতো করা সবজি, যেমন গাজর, রাঙালু, কুমড়ো, বিন্‌স্‌ ইত্যাদি
  • ডালের জল (বিশেষত মুগ বা মুসুর)
  • হালকা করা ভাতের মাড়
  • বাড়িতে তৈরি ভাত, বার্লি বা ওট্‌স্‌ চটকে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো

৬ মাসের শিশুকে মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানোর সাপ্তাহিক নির্দেশিকা

নীচে একটি খাদ্য সারণি দেওয়া হল। আপনি এটাও অনুসরণ করতে পারেন, অথবা নিজের পছন্দ মতো এবং শিশুকে কোন খাবার দিতে চান সেই ইচ্ছামতো নিজের সারণিও বানিয়ে নিতে পারেন।

৬ মাসের শিশুর খাদ্য সারণি – সপ্তাহ ১

১ম দিন ২য় দিন ৩য় দিন ৪র্থ দিন ৫ম দিন ৬ষ্ঠ দিন ৭ম দিন
সকাল ৮টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
সাড়ে ৯টা আপেল সেদ্ধ (১ টেবিল চামচ) আপেল সেদ্ধ (২ টেবিল চামচ) আপেল সেদ্ধ (৩ টেবিল চামচ) গাজর

থেঁতো করা (১ টেবিল চামচ)

গাজর

থেঁতো করা (২ টেবিল চামচ)

গাজর

থেঁতো করা (৩ টেবিল চামচ)

গাজর

থেঁতো করা

১১টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
দুপুর ১২টা ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম
১টা বুকের দুধ/ফর্মুলা আপেল সেদ্ধ (২ টেবিল চামচ) আপেল সেদ্ধ (৩ টেবিল চামচ) আপেল সেদ্ধ আপেল সেদ্ধ আপেল সেদ্ধ আপেল সেদ্ধ
সাড়ে ৩টে বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
৪টে ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম
সন্ধ্যা ৬টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
৮টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
সওয়া ৮টা রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম

প্রথম সপ্তাহ

এই সপ্তাহে ৩ দিনের নিয়মটা একদম অক্ষরে অক্ষরে পালন করুন। প্রথম সপ্তাহে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দেওয়ার পর একটা একটা করে নতুন খাবারের সঙ্গে পরিচয় ঘটানো হচ্ছে। বুকের দুধ বা ফর্মুলার থেকে একেবারে আলাদা স্বাদের সঙ্গে পরিচয় ঘটানো হচ্ছে যেহেতু, খুব অল্প অল্প করে দেওয়া শুরু করাই শ্রেয়।

৬ মাসের শিশুর খাদ্য সারণি – সপ্তাহ ২

১ম দিন ২য় দিন ৩য় দিন ৪র্থ দিন ৫ম দিন ৬ষ্ঠ দিন ৭ম দিন
সকাল ৮টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
সাড়ে ৯টা আপেল সেদ্ধ কলা থেঁতো করা কলা থেঁতো করা নাশপাতি থেঁতো করা সুজি সুজি গাজর

থেঁতো করা

১১টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
দুপুর ১২টা ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম
১টা সুজি সুজি সুজি ডালের জল ডালের জল ডালের জল সুজি
সাড়ে ৩টে বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
৪টে ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম
সন্ধ্যা ৬টা গাজরের রস/থেঁতো করা গাজরের রস আপেল থেঁতো করা গাজর থেঁতো করা/সুপ আপেল সেদ্ধ কলা থেঁতো করা থেঁতো করা নাশপাতি/আপেল
৮টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
সওয়া ৮টা রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম

দ্বিতীয় সপ্তাহ

দু’টি নতুন আধা-তরল খাবার শিশুকে খাইয়ে দেখা গেছে এবং কোনও অ্যালার্জিও হয়নি; এ বারে আরও দু’টি নতুন খাবারের সঙ্গে আপনার খুদেটির পরিচয় ঘটানো যেতে পারে। এত দিনে আপনি শিশুকে মোট ৪টি নতুন খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে ফেলেছেন।

পরামর্শ: শিশুর খেলার সময়, ঘুমের সময় ও খাওয়ার সময় নির্দিষ্ট রাখুন। শিশু এই রোজনামচায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে আপনার কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

৬ মাসের শিশুর খাদ্য সারণি – সপ্তাহ ৩

১ম দিন ২য় দিন ৩য় দিন ৪র্থ দিন ৫ম দিন ৬ষ্ঠ দিন ৭ম দিন
সকাল ৮টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
সাড়ে ৯টা কলা থেঁতো করা আপেল সেদ্ধ কলা থেঁতো করা সবেদা থেঁতো সবেদা থেঁতো সবেদা থেঁতো ভাতের সুপ
১১টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
দুপুর ১২টা ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম
১টা ভাতের সুপ ভাতের সুপ ভাতের সুপ সুজি কলা থেঁতো করা নাশপাতি থেঁতো করা সুজি
সাড়ে ৩টে বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
৪টে ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম
সন্ধ্যা ৬টা ডালের জল ডালের জল গাজর থেঁতো করা গাজর সুপ আপেল সেদ্ধ কলা থেঁতো করা সবেদা থেঁতো
৮টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
সওয়া ৮টা রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম

তৃতীয় সপ্তাহ

তৃতীয় সপ্তাহ শেষ হতে হতে আরও দু’টি নতুন খাবারের সঙ্গে পরিচয় ঘটে যাবে আপনার শিশুর; অর্থাৎ মোট ৬টি নতুন খাবার। এর মধ্যে কিছু খাবার আপনার শিশুর পছন্দ না হতে পারে, সেক্ষেত্রে সেটা খেতে জোর করবেন না। বরং খেয়াল করুন কোন কোন খাবারে ওর রুচি হচ্ছে।

৬ মাসের শিশুর খাদ্য সারণি – সপ্তাহ ৪

১ম দিন ২য় দিন ৩য় দিন ৪র্থ দিন ৫ম দিন ৬ষ্ঠ দিন ৭ম দিন
সকাল ৮টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
সাড়ে ৯টা গলা ভাত গলা ভাত গলা ভাত কুমড়ো সেদ্ধ থেঁতো কুমড়ো সেদ্ধ থেঁতো কুমড়ো সেদ্ধ থেঁতো ওট্‌স্‌
১১টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
দুপুর ১২টা ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম
১টা রাঙালু সেদ্ধ থেঁতো রাঙালু সেদ্ধ থেঁতো রাঙালু সেদ্ধ থেঁতো ডালের জল হালকা ভাতের মাড় নাশপাতি থেঁতো করা রাঙালু সেদ্ধ থেঁতো
সাড়ে ৩টে বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
৪টে ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম ভাতঘুম
সন্ধ্যা ৬টা আপেল সেদ্ধ ডালের জল গাজর থেঁতো করা গাজর সুপ সবেদা থেঁতো করা কলা থেঁতো করা সবেদা থেঁতো করা
৮টা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা বুকের দুধ/ফর্মুলা
সওয়া ৮টা রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম রাতের ঘুম

চতুর্থ সপ্তাহ

মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানোর চতুর্থ সপ্তাহে ঢুকে পড়েছেন, একটা গোটা মাস পেরিয়ে গেছে এবং আপনার বাচ্চা মোট ৮টি নতুন খাবারের সঙ্গে পরিচিত হয়ে গেছে। শিশু এত দিনে শক্ত খাবার খেতে অভ্যস্ত, এবং এবার থেকে দিনের যে কোনও সময় তার রোজনামচা বা পছন্দমতো তাকে আপনি খাওয়াতে পারেন।

দ্রষ্টব্য:

মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানোর এবং শিশুকে এই ৮টি নতুন খাবারের সঙ্গে পরিচয় করানোর ৪ সপ্তাহ সময়কালটির মধ্যে শিশুর কিছু কিছু খাবারে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোনও একটি খাবারে অ্যালার্জি হচ্ছে কিনা তা বোঝার কিছু উপসর্গ হল:

  • নাক দিয়ে জল গড়ানো
  • গায়ে ফুসকুড়ি বার হওয়া
  • পেটে ব্যথা
  • অস্বস্তি
  • ছটফটানি/বিরক্তি
  • পেট খারাপ
  • বমি

পরামর্শ:  শিশুর যদি কোনও একটা নির্দিষ্ট খাবারে অ্যালার্জি হচ্ছে বুঝতে পারেন, সঙ্গে সঙ্গে সেই খাবারটি দেওয়া বন্ধ করে দিন এবং ডাক্তার দেখান। যে কোনও রকম অ্যালার্জির জন্য প্রথম থেকেই চিকিৎসা করিয়ে নিন।

মাতৃদুগ্ধ ছাড়ানো খুব কঠিন কাজ কিছু নয়, আর অনেক ধরণের পন্থার মধ্যে থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগও আছে। তবে, স্বাভাবিক পদ্ধতিটিই সবচেয়ে শ্রেয় বলে মনে করা হয়, কারণ এতে মা ও শিশুর মধ্যে বোঝাপড়া ও বন্ধনটা আরও দৃঢ় হয়। মনে রাখবেন, তাড়াহুড়ো করলে কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায় না, বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে; সেখানে ধীরে ধীরে ও ধাপে ধাপে এগোনোই শ্রেয়। শক্ত খাবার খাওয়াতে শেখার আগে পরে এবং সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন, সব সময়েই বুকের দুধ শিশুর জন্য সবচেয়ে উপকারী। আপনার শিশু বয়সের ধর্মে স্বাভাবিক ভাবেই বুকের দুধ খাওয়া ছেড়ে দেবে, এর জন্য আলাদা করে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

https://www.nhs.uk/conditions/pregnancy-and-baby/solid-foods-weaning/

https://www.babycenter.in/a546661/which-weaning-foods-to-introduce-when

https://kidshealth.org/en/parents/weaning.html

https://www.beinghappymom.com/indian-food-chart-6-months-baby/

https://www.naturalchild.org/guest/norma_jane_bumgarner2.html