শিশুকে খাওয়ানোর মধ্যে ডিএইচএ এবং এআরএ’র ভূমিকা কী?

শিশুকে খাওয়ানোর মধ্যে ডিএইচএ এবং এআরএ’র ভূমিকা কী?

 

এই নিবন্ধটি বর্তমানে IAP বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা অধীনে; এখনো সম্পাদিত এবং অনুমোদিত এবং প্রযুক্তিগত এবং ভাষা ত্রুটি থাকতে পারে। দয়া করে এখানে ক্লিক করে সংশোধন এবং অনুমোদিত ইংরেজি সংস্করণ পড়ুন।

সম্ভবত আপনি ডিএইচএএবং এআরএসম্পর্কে অনেক শুনে থাকবেন। বাজারে বিক্রি হওয়া প্রায় সব ব্রান্ডের ফর্মুলায় এখন ডিএইচএ এবং এআরএ সমর্থিত থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন শিশুর বিকাশের জন্য বিশেষজ্ঞেরা কেন এটিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন? জানুন, কেন এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো উপকারী হয়।

ডিএইচএ এবং এআরএকি?

ডোকোসেক্সেকনিক অ্যাসিড (ডিএইএ) এবং আরাকিডনিক অ্যাসিড (এআরএ) বুকের দুধে প্রাপ্ত অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের সংশ্লেষিত সংস্করণ। এগুলো ডাস্কো (DHASCO) এবং আরাসকো (ARASCO) নামে তৈরি করা হয় এবং সাধারণত শিশু খাদ্য/ফর্মুলায় ডিএইএ এবং এআরএ হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

ডিএইচএ এবং এআরএ’র উপকারিতা কি এবং কেন আপনার শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

ডিএইচএ এবং এআরএ হল ফ্যাটি অ্যাসিড যা শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের বিকাশে সাহায্য করে। ডিএইচএ একটি ওমেগা-৩ চর্বি যা বুকের দুধে পাওয়া যায়, এটি স্নায়বিক টিস্যুর গঠন ও কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এআরএ একটি ওমেগা-৬ চর্বি যা সাধারণত খাদ্যের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে থাকে এবং অনেক ওমেগা-৬ ফ্যাট উদ্ভিজ্জ তেল যেমন সয়াবিন তেলের মতো খাবার থেকে আসে।

ডিএইচএ এবং এআরএ অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড, যা সাধারণত মানবদেহে তৈরি হয় না। উভয়ই দীর্ঘ শিকলবিশিষ্ট পলি অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলো আপনার শিশুর সুস্থ মস্তিষ্কের কার্যক্রম এবং দৃষ্টি, কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম জোরদার এবং উন্নত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অত্যাবশ্যক। তাই, অনেক বিশেষজ্ঞরা শিশুদের ডিএইচএ এবং এআরএ ব্যবহারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেন।

ডিএইচএ এবং এআরএ’র উত্সঃ খাদ্যতালিকাগত বনাম শিশু ফর্মুলা উৎস

ওমেগা -৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড যথাক্রমে ডিএইচএ এবং এআরএ’র অগ্রদূত। দৈনিক ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ এর খাদ্যতালিকাগত প্রয়োজনীয়তা বয়সের সাথে পরিবর্তিত হয়। এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত আপনার সন্তানের ৭ গ্রাম ওমেগা-৬ এবং ০.৭ গ্রাম ওমেগা-৩ প্রয়োজন। এবং চার থেকে আট বছর পর্যন্ত ১০ গ্রাম ওমেগা-৬ ও ০.৯ গ্রাম  ওমেগা-৩ প্রয়োজন।

বুকের দুধে ডিএইচএ এবং এআরএ’র পরিমাণ মায়ের খাবারের উপর নির্ভর করে। স্তন্যদানকারী মায়েদের খাদ্যে মাছ এবং অন্যান্য সীফুডে উচ্চমানে থাকলে তাদের স্তনের দুধে উচ্চ স্তরের ডিএইচএ থাকে। আপনি যদি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তবে নিম্ন-পারদযুক্ত মাছ এবং/অথবা একটি সম্পূরক দিয়ে আপনার খাদ্যতালিকায় ডিএইচএ এবং এআরএ রাখুন।

বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের রক্তে শিশু খাদ্য/ফর্মুলা (যাতে এসব ফ্যাটি অ্যাসিডগুলি থাকে না) গ্রহণকারী শিশুদের তুলনায় উচ্চতর ডিএইচএ এবং এআরএ থাকে। অতএব, বেশিরভাগ শিশু ফর্মুলা প্রস্তুতকারকরা সরাসরি শিশুদের ডিএইচএ এবং এআরএ প্রদান করতে আগ্রহী। তবুও, ডিএইচএ/এআরএ সম্পূরক সহ অথবা ব্যতীত ফর্মুলা-খাওয়ানো শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগের হার বেশী এবং টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাস হওয়ার ঘটনা অধিক পাওয়া যায়।

বুকের দুধ খাওয়ানো সর্বোত্তম

ডিএইচএ এবং এআরএর পাশাপাশি বুকের দুধ খাওয়ানোর অন্যান্য সুবিধা এবং উপকারিতা রয়েছে। বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, ভাষা,  মানসিক দক্ষতা এবং বয়স্ক কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জ্ঞানীয় দক্ষতা অর্জন করে। শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোতে ফর্মুলা, এবং ফর্মুলা ও বুকের দুধের সমন্বয়ের চেয়ে উন্নত মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটায়।

আপনার শিশুর বয়স যখন ছয় মাস হবে, তখন আপনি ধীরে ধীরে শিশুকে শক্ত খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন। আপনার শিশুর যদি স্বাস্থ্যকর ও সুষম পুষ্টিকর খাবার খায় তবে তার নিয়মিত খাদ্য থেকে ওমেগা-৬ ও ওমেগা-৩ পাবে। সেক্ষেত্রে তার সম্পূরকের প্রয়োজন হবে না।

অধিকাংশ ভারতীয় পরিবার ওমেগা-৩ ফ্যাটের চেয়ে অনেক বেশি ওমেগা-৬ ফ্যাট ব্যবহার করে। সম্ভবত আপনি আপনার শিশুর খাদ্যে ওমেগা-৩ পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারেন। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবারের উদাহরণ হল:

  • সীফুড, যার মধ্যে টুনা, স্যামনের মত মাছ, এবং হিলিবুট মাছ রয়েছে।
  • ফ্লেক্সসিডস বা শণ বীজ, এটি নতুন ভারতীয় সুপারফুড বলে মনে করা হয়। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সর্বোত্তম উত্সগুলির মধ্যে একটি।
  • ফুলকপি, এটি একটি মৌলিক ভারতীয় সবজি। এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সাথে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ফাইবার, খনিজ ও দ্রবণীয় চিনির উচ্চ পরিমাণে থাকে।
  • সয়াবিন, এটি ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা আপনার শিশুর জন্য অত্যাবশ্যক।
  • চিয়া বীজ, এটি একটি চমৎকার শক্তির উৎস, এবং এটি দই, শস্য এবং সালাদের উপর ছিটানো যায়।
  • কড মাছের যকৃতের তেল, এই তেল অত্যন্ত ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ হয়।

আপনার শিশুদের ডিএইচএএবং এআরএএর সম্পূরক প্রয়োজন কি?

রুটিনমাফিক ডিএইচএ এবং এআরএ সম্পূরকের সমর্থনে খুব কম বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়। নবজাতকদের উপর কিছু গবেষণায় শিশু ফর্মুলায় ডিএইচএ এবং এআরএ’র উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে ও স্নায়বিক বিকাশের উন্নতি হতে পারে বলে মনে করা হয়, তবে অন্যান্য গবেষণা থেকে এসব উপকারিতা নিশ্চিত করা যায়নি।

২০১১ সালে কোচারান কোলাবরেটিভ দ্বারা একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় পাওয়া গেছে যে পূর্ণকালীন/পূর্ণাঙ্গ শিশুদের জন্য এটি অধিক উপকারী তার কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, এবং যখন উপলব্ধ গবেষণা শুরু হয়, অপরিণত শিশু জন্যও এটি একইভাবে সত্য।

যদিও ইউএস ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) শিশু ফর্মুলায় ডিএইচএ এবং এআরএ সম্পূরক অনুমোদন করে, তবে শিশু ফর্মুলার প্রাক-বাজারজাতকরন পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। এফডিএ প্রস্তুতকারকদের কার্যকারিতার বিবৃতি গ্রহণ করে, এবং এগুলি বাজারজাত পরবর্তী নজরদারির মধ্যে থাকে।

ইন্ডিয়ান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের মতো মেডিকেল সংস্থাগুলি শিশু ফর্মুলায় ডিএইচএ এবং এআরএ যোগ করা উচিত কিনা তা নিয়ে কোনও দাপ্তরিক অবস্থান গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডিএইচএ এবং এআরএ অপরিণত/অকালে জন্ম নেয়া শিশুদের সাপ্লিমেন্টেশন। তাই, ডিএইচএ এবং এআরএ’র যুক্ত ফর্মুলা আপনার শিশুকে দিবেন কিনা তার সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার।

অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে ডিএইচএ এবং এআরএ সারপ্ল্যানমেন্ট

অপরিণত শিশুদের বিশেষ পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা আছে, এবং প্রিমী ফর্মুলাগুলোতে ডিএইচএ এবং এআরএ’র বিভিন্ন মাত্রা আছে। কিছু গবেষণায় দেখা যায় যে ডিএইচএ এবং আরএএ’র সরাসরি গ্রহণে অপরিণত/অকালে জন্ম নেয়া শিশুরা উপকৃত হতে পারে যেহেতু তারা ডিএইচএ এবং এআরএ ঘাটতির ঝুঁকিতে থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে অপরিণত/অকালিক শিশুদের মধ্যে দৃষ্টি তীক্ষ্নতা এবং জ্ঞানীয় দক্ষতা উন্নত করতে পারে।

ডিএইচএ এবং এআরএ যুক্ত শিশু ফর্মুলা কি নিরাপদ?

সম্প্রতি প্রকাশিত কোন দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা নেই যা ফর্মুলায় ডিএইচএএবং এআরএ’কে অগ্রাহ্য করে বা উৎসাহিত করে।

ভারতে অধিকাংশ ফর্মুলা কোম্পানিগুলো এখন শিশু ফর্মুলায় ডিএইচএ এবং এআরএ সম্পূরক যোগ করে। এই ফর্মুলাগুলি বেশ সহনীয় হয়, এবং মানুষের উপর পরীক্ষায় কোন ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায়নি। জলের মত ডায়রিয়া হল সর্বাধিক রিপোর্টকৃত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। বমি, ফুলে যাওয়া, আন্ত্রিক অস্বস্তি, ফুসকুড়ি, এবং হৃদরোগও রিপোর্ট করা হয়েছে। এই সমস্যাগুলি ডিএইচএ এবং এআরএ মুক্ত ফর্মুলাতে পরিবর্তন করে সমাধান করা যায়।

সারকথা

ডিএএ এবং এআরএ উভয়ই কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর জন্য আপনি কোন উপায়টি গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিবেন সেটি বড় কথা নয়, আপনার শিশুর জন্য ডিএইচএ এবং এআরএএ’র সর্বোত্তম উৎস হল দুধ। একটু বয়সী শিশুর জন্য মাছ, মাছের তেল, গরুর মাংস এবং ডিমের কুসুম হল চমৎকার উৎস।

তথ্যসূত্র

Hadley KB, Ryan AS, Forsyth S, Gautier S, Salem N. The Essentiality of Arachidonic Acid in Infant Development. Nutrients. 2016;8(4):216. doi:10.3390/nu8040216.

Brenna JT. Arachidonic acid needed in infant formula when docosahexaenoic acid is present. Nutr Rev. 2016 May;74(5):329-36.

Kent G. Regulating fatty acids in infant formula: critical assessment of U.S. policies and practices. International Breastfeeding Journal. 2014;9:2.

Uauy R, Hoffman DR, Mena P, Llanos A, Birch EE. Term infant studies of DHA and ARA supplementation on neurodevelopment: results of randomized controlled trials. J Pediatr. 2003 Oct;143(4 Suppl):S17-25.