কেন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট শিশুদের খাওয়ানোর উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?

কেন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট শিশুদের খাওয়ানোর উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?

 

এই নিবন্ধটি বর্তমানে IAP বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা অধীনে; এখনো সম্পাদিত এবং অনুমোদিত এবং প্রযুক্তিগত এবং ভাষা ত্রুটি থাকতে পারে। দয়া করে এখানে ক্লিক করে সংশোধন এবং অনুমোদিত ইংরেজি সংস্করণ পড়ুন।

আপনার শিশুর প্রথম ছয় মাসের মধ্যে বুকের দুধ হবে তার পুষ্টির প্রাথমিক উৎস। বুকের দুধে একটি ৬ মাস বয়সী শিশুর প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান যেমন, আমিষ, চর্বি, শর্করা, ভিটামিন এবং মিনারেলে রয়েছে।

যাইহোক, যখন আপনার বাচ্চা বেড়ে একটু বড় শিশুতে পরিনত হবে, তখন তার খুব নির্দিষ্ট পুষ্টির প্রয়োজন হবে, যা পূরণের উপর তার দীর্ঘকালীন মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিক স্বাস্থ্য এবং ভাল থাকা নির্ভর করবে। এখানেই মাইক্রোনিউট্রেন্টসের প্রয়োজনীয়তা অনুভুত হয় যেহেতু এগুলো পুষ্টি চাহিদার প্রাথমিক অংশ।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলি মানব দেহের বিকাশ ও সঠিক বৃদ্ধির জন্য অল্প পরিমাণে প্রয়োজনীয় অপরিহার্য উপাদান। এর মধ্যে রয়েছে বোরন, লিথিয়াম লৌহ, সোডিয়াম ইত্যাদি সহ ভিটামিন বি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন কে এর মত অন্যান্য ধরণের ভিটামিন।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস সকল বিপাকীয় এবং বিকাশ প্রক্রিয়া যেমন, কোষ বিভাজন, কার্ডিওভাসকুলার বৃদ্ধির সাথে সাথে মানব দেহের অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমের জন্য দায়ী। তারা একটি শিশুর বৃদ্ধিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ শিশুদের বিপাকীয় প্রক্রিয়া খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়  এবং এজন্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট শিশুর খাদ্যে একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং তাদের ভূমিকা

প্রায় ৪০ টি প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য জৈব রাসায়নিক রয়েছে যা মানুষের জন্য অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলি তৈরি করে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হলঃ

লৌহ

মানুষের রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিমোগ্লোবিন যা শরীরের বিভিন্ন অংশের অক্সিজেন সরবরাহ করে, এটি উৎপাদনের জন্য লৌহের প্রয়োজন। লৌহের ঘাটতি একটি গুরুতর অবস্থা যেখানে অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো ঠিকমত অক্সিজেন না পেয়ে সঠিকভাবে কাজ করে না এবং ভেঙ্গে যায়।

প্রথম ছয় মাসে, বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুরা লৌহ পায়। ছয় মাস পর শিশুটি আধা-শক্ত খাবার খেতে শুরু করে – তার শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায় তখন লৌহের প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক হয়ে ওঠে। লৌহ সমৃদ্ধ খাদ্য শিশুর ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং অঙ্গের বিকাশ নিশ্চিত করে।

১২ মাস বয়সী শিশুর জন্য প্রস্তাবিত লৌহের মাত্রা ১১ মিলিগ্রাম যা ব্রোকলি, ছোলা, আলু, সয়াবিন, শাকের মতো লৌহ সমৃদ্ধ খাবার দিয়ে সহজেই পূরণ করা যায়। কয়েক মাস ধরে তারা শক্ত খাবার খাওয়ার পরে আপনি আপনার শিশুর খাদ্য তালিকায় মাংস এবং মাছ অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

ক্যালসিয়াম

আপনি ইতিমধ্যে জেনেছেন, ক্যালসিয়াম সুস্থ হাড়ের জন্য অত্যাবশ্যক। শুধু তাই নয়, মজবুত দাঁত, সঠিকভাবে স্নায়ু এবং পেশীর কাজ, খাদ্য শোষণ এবং রক্ত জমাট বাঁধার জন্য ক্যালসিয়াম ভূমিকা রাখে।

শিশুদের সাধারণত প্রথম কয়েক বছরে এবং তারপর ১১ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ক্যালসিয়াম পরিমানে স্বাভাবিকের থেকে বেশি দরকার হয় যেহেতু এই সময়টাতে তাদের বৃদ্ধি বেশী হয়। আপনার শিশুর জন্য দৈনিক ক্যালসিয়াম গ্রহণের প্রস্তাবিত মাত্রা ৭০০ মিলিগ্রাম হতে হবে।

ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয় এবং সাধারণত হাড় দুর্বল হয় যা সহজে ভাঙ্গার ঝুঁকি থাকে ফলে আপনার শিশুর জীবনযাত্রার মান বিঘ্নিত হয়।

ক্যালসিয়াম দুধ, পনির, দই, ক্যালসিয়াম, সাদা সীম, ওটমিল এবং অনুরূপ সহজলভ্য খাবারে পাওয়া যায়।

জিংক

মানুষের শরীরের বৃদ্ধি এবং উন্নয়নে জিংকের ভূমিকা কখনও কখনও উপেক্ষা করা গেলেও এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়াসগুলির মধ্যে একটি। জিংক প্রায় ৭০ ধরণের এনজাইমের ভূমিকা প্রভাবিত করে যা দ্বারা খাবার হজম থেকে বিপাক পর্যন্ত হয়। মানুষের শরীরের ডিএনএ এবং প্রোটিন সংশ্লেষণের জন্য জিংক প্রয়োজন হয় যা বাড়তে থাকা শিশুদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

জিংক ঘাটতি বাড়ন্ত বাচ্চার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে পরিলক্ষিত হয়। বেড়ে উঠতে থাকা শিশুর মানসিক বিকাশের ধীরতা জিংকের ঘাটতির একটি প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য। অন্যান্য উপসর্গগুলির মধ্যে চোখ ও ত্বক ফোলা, ক্ষুধা হ্রাস, নিম্ন স্তরের সতর্কতা অন্যতম।

যেহেতু, দেহ জিংক সংরক্ষণ করতে পারে না, তাই আপনার শিশুকে  জিংক-সমৃদ্ধ খাবারগুলি নিয়মিত খাওয়ানো প্রয়োজন।  ১২ সপ্তাহের শিশুর জন্য দৈনিক জিংক গ্রহণের পরিমাণ ৩ মিলিগ্রাম। জিংক মাংস এবং মুরগির মত পোল্ট্রিতে ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়। নিরামিষাশীদের প্রায়ই জিংকের ঘাটতি থাকে যেটি তারা শিম, শতমূলী এবং ব্রোকোলি গ্রহণ করে পূরণ করতে পারেন।

ভিটামিন

অন্যান্য সকল মাইক্রোনিউইট্রেটের মতো, মানুষের শরীরের সর্বোত্তম কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন অপরিহার্য। যেহেতু ভিটামিন আমাদের দেহে এমনিতে উৎপাদিত হয় না, তাই ভিটামিনের জন্য বাহ্যিক  উৎস প্রয়োজন।

১৩ টি পরিচিত ভিটামিন আছে। এদের মধ্যে কিছু চর্বিতে-দ্রবণীয় (এ, ডি, ই এবং কে) এবং অন্যগুলি হল জলে দ্রবণীয় (সি, বি, বি ২, বি ৩ এবং বি এর অন্যান্য ধরনগুলো )। বিভিন্ন ভিটামিন মানব দেহের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে, তাই এই সবগুলো আপনার শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

আমাদের লিভার চর্বিতে-দ্রবণীয় ভিটামিন সঞ্চয় করে এবং এইভাবে তারা মাসজুড়ে আমাদের দেহে থাকতে পারে।

চর্বিতে-দ্রবণীয় ভিটামিন এগুলোর জন্য দায়ীঃ

  • সঠিক দৃষ্টিশক্তি এবং স্বাস্থ্যকর ত্বক (ভিটামিন এ)
  • হাড় এবং দাঁতে ক্যালসিয়ামের সঠিক শোষণ (ভিটামিন ডি)
  • কোষ বৃদ্ধি এবং স্নায়ুতন্ত্রের উন্নয়ন (ভিটামিন ই)
  • রক্ত জমাট বাঁধা (ভিটামিন কে)

অন্যদিকে, জলে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলি দায়ীঃ

  • লৌহ শোষণ (ভিটামিন সি)
  • স্কার্ভি প্রতিরোধ (ভিটামিন সি)
  • রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঠিক বিকাশ (ভিটামিন বি)
  • স্বাস্থ্যকর ত্বক এবং ত্বকের সতেজতা বজায় রাখা (ভিটামিন বি)

যতদিন আপনার শিশু স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য খাচ্ছে, ততই সম্ভাবনা যে তার ভিটামিনের চাহিদা ভালভাবে পূরণ হচ্ছে। ভিটামিনগুলি অত্যন্ত সুপরিচিত উত্স, যেমন শাক সবজি, কলাই, ফল, মুরগি, মাংস ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

উপসংহার

এরকম আরও অনেক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে যা আমাদের প্রত্যহ সুস্থ রাখে। যদিও খুব অল্প পরিমাণে দরকার হয়, আপনার বেড়ে উঠতে থাকা শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টসের গুরুত্ব উপেক্ষা করতে পারবেন না। সৌভাগ্যবশত, আপনার শিশু পর্যাপ্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস পাওয়া যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য কোনও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন পড়ে না। সুষম এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্যই যথেষ্ট।

যদি আপনি মনে করেন যে আপনার শিশুর একটি বিশেষ পুষ্টির অভাব রয়েছে, তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। ডাক্তার আপনাকে সেই বিশেষ পুষ্টির একটি ভাল উৎস সুপারিশ করতে পারবেন। গুরুতর ক্ষেত্রে, আপনার শিশুকে সম্পূরক খাওয়াতে পারেন – তবে শুধুমাত্র ডাক্তারের পরামর্শে এটি করুন।